“বিরল খনিজের টোপ!”-তবে কি এবার কি হাত মেলাচ্ছেন ট্রাম্প-পুতিন?

ইউক্রেন ইস্যুতে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়া আমেরিকার জন্য একটি বড় প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এসেছে। মঙ্গলবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, রাশিয়ার কাছে প্রচুর পরিমাণে বিরল খনিজ মজুত রয়েছে এবং আমেরিকা যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখায়, তবে এই খনিজ নিয়ে একটি চুক্তি করতে মস্কো প্রস্তুত। এর আগে সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, আমেরিকার সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার জন্য রাশিয়া তৈরি।

ট্রাম্পের সাড়া: ‘একটি ভালো সুযোগ’
রাশিয়ার এই প্রস্তাবের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি রাশিয়ার কাছ থেকে খনিজ কিনতে চাই। তাদের কাছে প্রচুর বিরল খনিজ আছে, তেল আর গ্যাসও আছে। এটা ভালো জিনিস। রাশিয়ার জন্যও ভালো, কারণ আমরা চুক্তি করতে পারি। তাদের মূল্যবান জমি আছে, যা ব্যবহার হচ্ছে না। আমরা সেটা কাজে লাগাতে পারি।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য রাশিয়ার প্রস্তাবকে গ্রহণযোগ্যতা দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এর আগে এই মাসের শুরুতে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রতি বলেছিলেন, মার্কিন সহায়তার বিনিময়ে তাদের বিরল খনিজ দিতে হবে। তিনি বলেছিলেন, “আমরা ইউক্রেনকে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিয়েছি। আমরা তাদের বলছি, তোমাদের কাছে দারুণ বিরল খনিজ আছে। আমরা একটা চুক্তি চাই, যাতে আমাদের সাহায্যের বদলে তারা আমাদের খনিজ দেবে।” এখন রাশিয়ার প্রস্তাবের পর ট্রাম্পের এই মনোভাব নতুন মোড় নিয়েছে।

বিরল খনিজের কৌশলগত গুরুত্ব
বিরল খনিজ হল ১৭টি ধাতুর একটি গ্রুপ, যা আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য। ইলেকট্রিক গাড়ি, স্মার্টফোন, এবং সামরিক সরঞ্জামে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই খনিজগুলো পৃথিবীর ভূত্বকে পাওয়া গেলেও, এদের উৎপাদন জটিল এবং বিশ্বের মাত্র কয়েকটি দেশে এর মজুত আছে। মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভে’র তথ্য অনুসারে, চীন, ব্রাজিল, ভারত, এবং অস্ট্রেলিয়ার পর রাশিয়ার কাছে বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ বিরল খনিজ মজুত রয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনে রয়েছে ইউরেনিয়াম, লিথিয়াম ও টাইটানিয়ামের বিশাল ভাণ্ডার।

মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভে ৫০টি খনিজকে অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে বিরল খনিজ ছাড়াও নিকেল ও লিথিয়াম আছে। আমেরিকার একটি মাত্র বিরল খনিজ খনি আছে, কিন্তু প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা খুবই কম। বর্তমানে আমেরিকা তার বিরল খনিজের চাহিদার জন্য চীনের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। চীন এই খনিজ রপ্তানিতে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার ফলে আমেরিকা বিকল্প উৎসের খোঁজে আছে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রস্তাব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

ইউক্রেন বনাম রাশিয়া: ট্রাম্পের পছন্দ কী?
ইউক্রেনের সঙ্গে বিরল খনিজ নিয়ে চুক্তির আলোচনা চললেও, রাশিয়ার প্রস্তাব আমেরিকার জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার খনিজ মজুত ইউক্রেনের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি এমনকি দাবি করেছেন, ইউক্রেনের যে অংশ রাশিয়া দখল করেছে, সেখানেও বিরল খনিজের ভাণ্ডার আছে, যা আমেরিকার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। এই প্রস্তাব ইউক্রেনের জন্য চাপ তৈরি করছে, কারণ ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইউক্রেনের কাছে সাহায্যের বিনিময়ে খনিজ চেয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ কৌশলগত। ইউক্রেনের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যে মস্কো নিজেকে বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া থেকে মনে হচ্ছে, তিনি এই প্রস্তাবে আগ্রহী। তবে এটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং ইউক্রেনের ওপর এর প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে।