ভূত সেজে ঘুরে বেড়ায় সব মানুষ জন, শিবরাত্রিতে কেন এমন আজব রীতি? জানুন

শিবরাত্রির পবিত্র সকালে তারকেশ্বর থেকে দেওঘর, বাঁকুড়া থেকে নদিয়া—চারিদিকে শিবভক্তদের উৎসাহে মুখরিত। মহা শিবরাত্রির এই দিনে শিবের আরাধনায় মেতে উঠেছে লাখো ভক্ত।

তারকেশ্বরে চার প্রহরে চারবার পূজার আয়োজন করা হয়েছে। শুধু রাজ্য নয়, বাইরের রাজ্য থেকেও ভক্তরা ছুটে এসেছেন মহাদেবের আশীর্বাদ নিতে। মন্দির প্রাঙ্গণে পা ফেলার জায়গা নেই। অদূরে কামারপুকুরের যোগী শিব মন্দিরেও একই চিত্র। রামকৃষ্ণ মঠের মধ্যে অবস্থিত এই মন্দিরে সকাল থেকেই ভিড়। কথিত আছে, যোগী শিবের দিব্য আলোয় চন্দ্রামনি দেবীর গর্ভে শ্রী রামকৃষ্ণের জন্ম। তাই এই মন্দিরের প্রতি ভক্তদের আকর্ষণও অপরিসীম।

বাঁকুড়ার দারকেশ্বর নদীর তীরে অবস্থিত সুপ্রাচীন এক্তেশ্বর মন্দিরে শিবরাত্রির ভিড়ে উপচে পড়ছে। সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন কোণ থেকে পুণ্যার্থীরা এসে জড়ো হয়েছেন। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে মহিলারা পূজো দিচ্ছেন। দারকেশ্বরের জল তুলে শিবলিঙ্গে ঢালছেন ভক্তরা, পুণ্যলাভের আশায়। ভিড় সামলাতে মন্দির কর্তৃপক্ষকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। দিনভর বিশেষ পূজার পাশাপাশি সন্ধ্যায় শৃঙ্গারের আয়োজন রয়েছে।

দেওঘরের বৈদ্যনাথধাম মন্দিরে শিবরাত্রির উৎসব মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম। সারারাত ধরে চলবে মহাযজ্ঞ। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ ‘ভূত বারাতি’। শহরের মানুষ ভূত সেজে ঘুরছেন। পুরুষরা পেরা ও ছোট টোপর পরে বাবা বৈদ্যনাথের পূজো দিচ্ছেন, মনোবাসনা পূরণের আশায়। এই মন্দিরে শিবের ত্রিশূলের বদলে রয়েছে পঞ্চশূল, যা এটিকে অনন্য করে তুলেছে। প্রশাসন কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

নদিয়ার শিবনিবাসে, যেখানে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গ রয়েছে, সেখানেও শিবরাত্রির উন্মাদনা তুঙ্গে। কথিত আছে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসছেন পূজো দিতে। এখানেও মেলা বসেছে। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শিবরাত্রির এই উৎসব শিবভক্তদের কাছে ভক্তি ও আনন্দের এক অনন্য মিলন। তারকেশ্বর থেকে দেওঘর—প্রতিটি মন্দিরে শিবের জয়ধ্বনি আর ভক্তদের উল্লাসে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারদিক।