“দেহ হাত-পা কেটে পিস পিস্ করা হয়”-কুমোরটুলি-কাণ্ডে কি বলছে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট?

মঙ্গলবার সকালে কলকাতার কুমোরটুলি ঘাটের কাছে উত্তেজনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা দুই মহিলা—ফাল্গুনী ঘোষ ও তাঁর মা আরতি ঘোষকে একটি মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় আটক করে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই দুই মহিলাকে হেফাজতে নেয় এবং মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই মহিলারা মৃতদেহটি সন্দেহজনকভাবে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

ময়নাতদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মৃতদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ধরা পড়েছে। রিপোর্টে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো হল:

ঘাড় ও হাতে আঘাত: ডান ঘাড়, ডান বাহু, ডান হাত, বাম হাত ও বাহুতে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন।

মাথায় গুরুতর ক্ষত: ডান টেম্পোরাল অঞ্চলে গভীর ক্ষতসহ মাথার বিভিন্ন জায়গায় একাধিক আঘাত।

পায়ে চিহ্ন: দুই পায়ের গোড়ালিতে আঘাত।

স্কাল হেমাটোমা: মাথার খুলিতে রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ।

মৃত্যুর সময়: ময়নাতদন্তের সময় থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা।

তবে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। চূড়ান্ত ফলাফল না আসা পর্যন্ত মতামত স্থগিত রাখা হয়েছে।

পুলিশি তদন্তে নতুন মোড়
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যা মামলা রুজু করেছে। আটক ফাল্গুনী ও আরতিকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত জব্দ করা হয়েছে। এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “ময়নাতদন্তে শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা হত্যার সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করে। তবে রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফলের পরই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “দুই মহিলাকে মৃতদেহ নিয়ে ঘাটের দিকে যেতে দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। তাঁদের আচরণ স্বাভাবিক মনে হয়নি, তাই পুলিশকে ডাকা হয়।”

তদন্তের পরবর্তী ধাপ
পুলিশ জানিয়েছে, রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। ফাল্গুনী ও আরতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন। হত্যার পেছনে উদ্দেশ্য খুঁজতে মৃতার পারিবারিক ও আর্থিক সম্পর্কের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিবাদ বা টাকাপয়সার লেনদেন এই ঘটনার কারণ হতে পারে। তদন্ত এগোলে মৃতার পরিচয় ও হত্যার মোটিভ আরও স্পষ্ট হবে।

এই ঘটনা কলকাতার কুমোরটুলি এলাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে সকলের নজর রয়েছে।