“পরবর্তী মহাকুম্ভ নদীর তীরে নয়, বরং শুকনো বালিতে…”- প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি সোনম ওয়াংচুকের

পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক মহা কুম্ভের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। তিনি এই চিঠিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন যে, আগামী ১৪৪ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী মহা কুম্ভ নদীর তীরে নয়, বরং শুকনো বালির ওপর হতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, ‘ততদিনে আমাদের নদীগুলি শুকিয়ে যেতে পারে।’
চিঠিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ভারতের প্রধান নদীগুলির উৎস হিমালয়ে অবস্থিত। কিন্তু সেখানকার হিমবাহগুলি দ্রুত গলে যাচ্ছে। তিনি প্রস্তাব করেছেন, হিমবাহের অবস্থা পর্যালোচনা ও সংরক্ষণের জন্য একটি কমিশন গঠন করা জরুরি। ওয়াংচুকের মতে, ‘ভারতের হিমালয় রয়েছে বলেই আমাদের গঙ্গা, যমুনার মতো পবিত্র নদীগুলি প্রবাহিত। তাই হিমবাহ রক্ষায় ভারতকে নেতৃত্ব দিতে হবে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘হিমালয়ের হিমবাহ এইভাবে গলতে থাকলে এবং বনাঞ্চল ধ্বংস হতে থাকলে, আগামী কয়েক দশকের মধ্যে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধুর মতো নদীগুলি কেবল মৌসুমী প্রবাহে পরিণত হবে। তখন মহা কুম্ভের মতো পবিত্র অনুষ্ঠানও বালির ওপরেই করতে হতে পারে।’ তিনি দুঃখ করে বলেন, এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার বড় অভাব রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি জানান, তিনি এই পদক্ষেপগুলির ভক্ত। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘হিমবাহ ও নদী রক্ষা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা কী রেখে যাব?’
এদিকে, আজ মহা শিবরাত্রি উপলক্ষে মহা কুম্ভের শেষ শাহি স্নান। গত ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মীয় মিলন ৬ সপ্তাহ ধরে চলেছে। এর মধ্যে ৬টি শাহি স্নানের দিন ছিল—১৩ জানুয়ারি (পৌষ পূর্ণিমা), ১৪ জানুয়ারি (মকর সংক্রান্তি), ২৯ জানুয়ারি (মৌনী অমাবস্যা), ৩ ফেব্রুয়ারি (বসন্ত পঞ্চমী), ১২ ফেব্রুয়ারি (মাঘী পূর্ণিমা) এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি (শিবরাত্রি)। এই সময়ে কুম্ভের জলে মল-মূত্র থেকে ব্যাক্টেরিয়ার উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। জাতীয় পরিবেশ আদালতে জমা পড়া একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, এই জল স্নানের জন্যও অনুপযুক্ত। যদিও উত্তরপ্রদেশ কর্তৃপক্ষ তা খারিজ করে জানায়, জল সম্পূর্ণ নিরাপদ।