অপহরণের পর বাংলাদেশে পাচার, নাবালিকার মুক্তিপণ চাওয়া হলো ৩০ হাজার?

উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ১৩ বছরের এক নাবালিকাকে অপহরণ করে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অপহরণের পর মেয়েটির পরিবারের কাছে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে এক বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে। পরিবার রবিবার হেমতাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ওই নাবালিকা গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ। তাঁর মা হাট থেকে ফিরে দেখেন মেয়ে বাড়িতে নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কোনও হদিস না মেলায় পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। পরে জানা যায়, প্রতিবেশী শচিন বর্মনের বাড়িতে আগত এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে মেয়েটি চলে গিয়েছে। ওই যুবকের ফোনও সুইচড অফ পাওয়া যায়। শচিনের মাধ্যমে বাংলাদেশে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, ৩০ হাজার টাকা না দিলে মেয়েকে ফেরত পাঠানো হবে না।
পরিবারের আর্থিক সংকট
নাবালিকার মা বলেন, “শুক্রবার আমি হাটে গিয়েছিলাম। ফিরে দেখি মেয়ে বাড়িতে নেই। অনেক খুঁজেও কিছু জানতে পারিনি। পরে শুনি, প্রতিবেশীর বাড়িতে আসা এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে ও চলে গিয়েছে। তারপর জানতে পারি, ৩০ হাজার টাকা দিলে ওকে ফেরত দেবে। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা কোথায় পাব? শুধু চাই আমার মেয়ে সুস্থভাবে ফিরে আসুক।”
স্থানীয়দের অভিযোগ
এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শচিন বর্মনের বাড়িতে নিয়মিত বাংলাদেশ থেকে লোকজনের আনাগোনা ছিল। এক বাসিন্দা বলেন, “শচিনের বাড়িতে বাংলাদেশিদের যাতায়াত লেগেই থাকত। পুলিশের এটা দেখা উচিত।” ঘটনার পর থেকে শচিন গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
পঞ্চায়েত সদস্যের বক্তব্য
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য বিপ্লব সরকার বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমি পরিবারকে থানায় অভিযোগ জানাতে বলি। মেয়েটিকে কী উদ্দেশ্যে নিয়ে গিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ না যাতায়াতের খরচ, তাও বোঝা যাচ্ছে না। আমি চাই মেয়েটি মায়ের কাছে ফিরে আসুক। পুলিশ তদন্ত করছে।”
পুলিশের তৎপরতা
রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার সুপার মহম্মদ সানা আখতার জানিয়েছেন, “লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়েটিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকায় উত্তেজনা
এই ঘটনায় হেমতাবাদে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা কীভাবে ঘটল। পুলিশ এখন অপহরণের উদ্দেশ্য ও জড়িতদের খুঁজে বের করতে তৎপর। পরিবারের একমাত্র আশা, তাঁদের মেয়ে যেন দ্রুত ফিরে আসে।