ত্রিকোণ প্রেম! তলে তলে চলছিল সবটা, সত্যিটা প্রকাশ্যে আসতেই বিষ খেল দুই প্রেমিকা

প্রেম কখন, কোথায়, কাকে কোন পরিণতির দিকে ঠেলে দেবে, তা বলা মুশকিল। ঠিক যেমন ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরে। এক প্রেমিককে নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে একসঙ্গে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিলেন দুই বান্ধবী! যার জেরে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে, আরেকজন এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন হাসপাতালে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে রেশমা, সারদা, ও দিবাকর—তিন কলেজ বন্ধু।

রেশমা: মুদিগুব্বার বাসিন্দা, একসময় দিবাকরের প্রেমিকা ছিলেন। পরে বিয়ে করেন অন্য কাউকে, কিন্তু সেই সম্পর্ক টেকেনি।
সারদা: কানেকালের বাসিন্দা, রেশমার কলেজের বন্ধু। দিবাকরের নতুন প্রেমিকা।
দিবাকর: বাথালাপল্লির বাসিন্দা, একসঙ্গে দুই বান্ধবীর সঙ্গে প্রেম চালিয়ে যাচ্ছিলেন!

তিনজনই অনন্তপুরের একটি কলেজে পড়াশোনা করতেন। কলেজজীবনে রেশমা ও দিবাকরের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু স্নাতক শেষ হওয়ার পর সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। এরপর রেশমা অন্য একজনকে বিয়ে করলেও সেই দাম্পত্য জীবন টেকেনি। অবশেষে স্বামীর ঘর ছেড়ে আবারও দিবাকরের জীবনে ফিরে আসেন রেশমা।

এদিকে, রেশমার পুরোনো প্রেমিক দিবাকর তখন সম্পর্কে জড়িয়েছেন রেশমার কলেজের বন্ধু সারদার সঙ্গে! দু’জনের সঙ্গেই দিবাকর প্রেম চালিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু একে অপরকে এই সম্পর্কে জানার কোনো সুযোগ দেননি তিনি।

রেশমা ও সারদার মধ্যে কলেজজীবনের বন্ধুত্ব অটুট ছিল। একদিন ইনস্টাগ্রামে আলাপচারিতার সময় তাঁরা জানতে পারেন, দু’জনেই একই ব্যক্তির প্রেমিকা! এই ঘটনা তাঁদের কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল।

সত্যিটা জানার পর তাঁরা দু’জনেই দিবাকরের কাছে ফোন করেন। কিন্তু বারবার ফোন পেয়ে অতিষ্ঠ হয়ে দিবাকর ফোন সুইচ অফ করে দেন। এরপরেই ঘটে চরম পরিণতি।

দিবাকরের প্রতারণা মেনে নিতে পারেননি দুই বান্ধবী। সিদ্ধান্ত নেন, একসঙ্গে বিষ খাবেন!তাঁরা সুপার ভাসমল নামের একধরনের কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।বিষের প্রভাবে সারদার ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রেশমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর অনন্তপুর ওয়ান টাউন পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, দিবাকর একইসঙ্গে দুই বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তা নিয়ে কোনো স্পষ্টতা দেননি।

এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি ত্রিকোণ প্রেমের কাহিনি নয়, বরং মানসিকভাবে ভেঙে পড়া দুই তরুণীর চরম সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। মাত্র একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে অকালে ঝরে গেল এক তরুণীর প্রাণ এবং আরেকজন হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা ও মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এখন দেখার, পুলিশি তদন্তে দিবাকরের ভূমিকা নিয়ে কী উঠে আসে এবং এই সম্পর্কের জটিলতা ভবিষ্যতে আর কী মোড় নেয়!