“শেয়ার বাজারে চলছে রক্তক্ষরণ”-800-রও বেশি পয়েন্ট খোয়াল Sensex ; পতন Nifty তেও

ভারতীয় শেয়ার বাজারে টানা পাঁচটি সেশনে পতন অব্যাহত। সোমবার বাজার খুলতেই সেনসেক্স প্রায় ৮০০ পয়েন্ট পড়ে যায়, এবং নিফটি ২২২ পয়েন্ট কমে যায়। বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ সেনসেক্সের সূচক ৭৪,৫০৯.৬০ পয়েন্টে পৌঁছায়, যেখানে গত শুক্রবার সেনসেক্স ৭৫,৩১১.০৬ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছিল।

বিশ্ব বাজারে চলমান মন্দা, বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধের হুঁশিয়ারি, ভারতের শেয়ার বাজারের এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের শুল্ক নীতি নিয়ে তার আগের হুঁশিয়ারি বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আমেরিকার পণ্যের উপর শুল্ক চাপানোর পর, ট্রাম্প পাল্টা শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

শেয়ার বাজারে অস্থিরতা: চিন ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রভাব
শুধু ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিই নয়, চিনের শেয়ার বাজারের উত্থানও ভারতীয় বাজারের জন্য একটি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিন সরকার শেয়ার বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার কারণে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ভারতের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে শেয়ার বিক্রি করছেন। তাদের বিক্রয় প্রবণতা ভারতের শেয়ার বাজারে মন্দার আরও গতি সঞ্চার করেছে, যা বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

পদক্ষেপ ও ভবিষ্যতের পরিস্থিতি
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী দিনে শেয়ার বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। জিওজিৎ ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস-এর চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্টের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রয় প্রবণতা এবং ট্রাম্পের শুল্ক হুঁশিয়ারি দুটোই বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তবে, বাজারের এই পতন দীর্ঘস্থায়ী হবে কিনা, তা এখনই বলা কঠিন। বিশ্ব বাজারের পরিস্থিতি এবং শেয়ার বাজারে সরকারের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতের পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে।

অধিকাংশ বিশ্লেষকের মতে, এই সময়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।