“ডাক্তারের ভিজিট ১ টাকা”-বাঁকুড়াবাসীর কাছে ভগবান এই চিকিৎসক

সাম্প্রতিক সময়ে ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর প্রাণহানির ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। আবার, দক্ষ ডাক্তারদের হাত ধরে জটিল অস্ত্রোপচার করে বহু রোগীও নতুন জীবন ফিরে পান। এই দুই চিত্রের মধ্যেই ঘটে যাচ্ছে জাল ওষুধ কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে স্যালাইনের সংকট। তবে এই সবের মধ্যে ব্যতিক্রমী এক চিকিৎসকের গল্প উঠে এসেছে, যিনি বড় বড় রোগ সারাচ্ছেন, অথচ তাঁর ভিজিট মাত্র এক টাকা!

গলায় স্টেথোস্কোপ, চোখে চশমা, সাধারণ পোশাকে রোগী দেখছেন ডাক্তার প্রিয়তোষ ধল্ল। সাধারণত চিকিৎসকদের মোটা অঙ্কের ফি নেওয়ার প্রবণতা থাকলেও তিনি দাঁড়িয়েছেন সম্পূর্ণ অন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। বাঁকুড়া জেলার বেলিয়াতোড়ের বাসিন্দা এই চিকিৎসক প্রতি শুক্রবার মাত্র এক টাকার বিনিময়ে রোগী দেখেন, যা শুনে অনেকেই অবাক হন।

ডা. প্রিয়তোষ ধল্ল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস পাস করেন এবং পরে বক্ষ ও হাঁপানি রোগ বিষয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। এরপর বাঁকুড়া জেলা পরিষদের মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সংকল্প নিয়ে তিনি শুরু করেন এক টাকার বিনিময়ে রোগী দেখা।

বর্তমানে যখন চিকিৎসকদের নিয়ে নানা বিতর্ক ও সমালোচনা রয়েছে, তখন মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ডা. ধল্ল। প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার নিজের বাড়িতেই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রোগী দেখেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কেন এক টাকা পারিশ্রমিক? তাঁর স্পষ্ট উত্তর, ‘রোগী দেখা একেবারে বিনামূল্যে করলে সেটাও ঠিক নয়, তাই এক টাকা সাম্মানিক নিচ্ছি।’

শুধু বাঁকুড়া নয়, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর ও বর্ধমান থেকেও বহু মানুষ ছুটে আসছেন এই ডাক্তারবাবুর কাছে চিকিৎসা করাতে। তিনি মনে করেন, ডাক্তারি পেশা শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের জন্য নয়, এটি মানুষের সেবার এক মহান ব্রত। তিনি বলেন, ‘ভগবানের আশীর্বাদে আমরা ডাক্তার হতে পেরেছি, তাই আমাদের মানবিক হওয়া উচিত।’

যেখানে সমাজের অনেকেই আজ স্বার্থপরতার কারণে মানবিক মূল্যবোধ ভুলে যাচ্ছেন, সেখানে ১ টাকার ডাক্তার প্রিয়তোষ ধল্ল যেন মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।