মহা শিবরাত্রির দিন কোন সময় পুজো করার শ্রেষ্ঠ জানেন? জেনেনিন বিস্তারিতভাবে

শিবপুরাণ অনুসারে মহাদেব হলেন আদি শক্তির অনন্ত আধার, সর্বপ্রথম ও শাক্ত সম্প্রদায়ের প্রধান আরাধ্য। শাস্ত্রে বলা হয়, মহাশিবরাত্রি হল তাঁর আরাধনার শ্রেষ্ঠ দিন। বিশ্বাস, এই দিন উপবাস করে ভক্তিভরে পুজো করলে শিব সন্তুষ্ট হন এবং ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন। কথিত আছে, কুমারীরা যদি সঠিক নিয়মে ব্রত পালন করেন, তবে শিবের মতো জীবনসঙ্গী লাভ করতে পারেন। এ বছর মহাশিবরাত্রি পড়েছে ২৬ ফেব্রুয়ারি, যেদিন অদ্ভুতভাবে মহাকুম্ভের শেষ স্নান ও মেলার অন্তিম দিনও একসঙ্গে পড়েছে।
মহাশিবরাত্রির তিথি ও সময়
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে:
চতুর্দশী তিথি শুরু: ১৪ ফাল্গুন, ২৬ ফেব্রুয়ারি (বুধবার), সকাল ১১:১০ মিনিট।
চতুর্দশী তিথি শেষ: ১৫ ফাল্গুন, ২৭ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার), সকাল ৮:৫৫ মিনিট।
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুসারে:
চতুর্দশী তিথি শুরু: ১৩ ফাল্গুন, ২৬ ফেব্রুয়ারি (বুধবার), সকাল ৯:৪১:০৮ মিনিট।
চতুর্দশী তিথি শেষ: ১৪ ফাল্গুন, ২৭ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার), সকাল ৮:২৯:৩১ মিনিট।
নিশীথ কাল:
শাস্ত্র মতে, মহাশিবরাত্রির পুজোর শ্রেষ্ঠ সময় হল নিশীথ কাল। এটি শুরু হবে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১২:০৯ মিনিটে এবং শেষ হবে ১২:৫৯ মিনিটে। এই সময়ে শিবের আরাধনা করা সবচেয়ে ফলদায়ী বলে মনে করা হয়।
মহাশিবরাত্রিতে শিবের আরাধনা চার প্রহরে করা হয়। কেউ এক প্রহরে পুজো করেন, আবার কেউ চার প্রহরেই ভক্তি নিবেদন করেন। শাস্ত্রে বলা হয়, সন্ধ্যায় স্নানের পর শিবের পুজো শুরু করা উচিত। ব্রতের পূর্ণ ফল পেতে সূর্যোদয় থেকে চতুর্দশী তিথি শেষ হওয়া পর্যন্ত উপবাস পালন করা প্রয়োজন। ব্রতের আগের দিন সংযম পালন করতে হয়। এই দিন আমিষ খাবার বর্জন করা উচিত। ময়দার খাবার খাওয়া যায়, তবে নুনের পরিবর্তে সন্দক লবণ ব্যবহার করতে হবে। বিশ্বাস, নিষ্ঠার সঙ্গে এই নিয়ম পালন করলে মহাদেব ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন।
এ বছর মহাশিবরাত্রির সঙ্গে মহাকুম্ভের শেষ স্নান ও মেলার সমাপ্তি একই দিনে পড়ায় ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ আরও বেড়েছে। এই দিনে দেশের বিভিন্ন শিব মন্দিরে ভিড় জমবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনেকে এই দিনকে শিবের কৃপা লাভের বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
শিবভক্তরা এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। মহাশিবরাত্রির এই পবিত্র দিনে শিবের আরাধনায় মেতে উঠবে গোটা দেশ।