“বুকের খাঁজ, খিস্তি ও ভিউ…”- সোশ্যাল মিডিয়ার ‘নোংরামি’ নিয়ে মুখ খুললেন ঝিলম!

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি অনেকের উপার্জনের পথও হয়ে উঠেছে। কেউ রান্নার ব্লগ বানাচ্ছেন, কেউ জীবনধারা নিয়ে ভিডিও করছেন, আবার কেউ চটুল বা অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করে ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা করছেন। এই শেষের ধরনের কনটেন্ট নিয়েই এবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ঝিলম গুপ্ত।

ঝিলম সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন, যেখানে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন অশ্লীল কনটেন্টের বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্য, সহজে লাইক ও ভিউজ পাওয়ার জন্য কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে শরীর প্রদর্শন ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যা সমাজের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

পোস্টে তিনি লেখেন—”বুকের খাঁজ, খিস্তি ও ভিউ— একটি প্রেমকথা! আজ আমি ঘটনাচক্রে তিন-চারটি ভিডিও আমার ফিডে আসতে দেখি এবং প্রতিটিই একই ধরনের। একটিতে এক বিবাহিতা মহিলা টাইট ব্লাউজ পরে নিজের স্তনযুগল দেখানোর চেষ্টা করছেন। আরেকটিতে একজন মহিলা শাড়ি পরা শেখাচ্ছেন, কিন্তু ভিডিওর ধরন দেখে মনে হলো শাড়ি খোলা শেখাচ্ছেন!”

ঝিলমের বক্তব্য অনুযায়ী, এই কনটেন্ট নির্মাতারা শুধু ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের জনপ্রিয়তার জন্য নিজেদের শরীরকেই পুঁজি করছেন। তিনি আরও লেখেন—”এই তিনটি ভিডিওর কমেন্ট সেকশনে দেখলাম, বেশির ভাগ পুরুষ ফোন নম্বর চাইছেন, আর কিছু মহিলা ধিক্কার জানিয়ে চলে যাচ্ছেন। এতদিন ফেসবুক রিপোর্ট করা পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিত, কিন্তু এখন কেন এসব ভিডিও থেকে যাচ্ছে?”

ঝিলম আরও লেখেন—”তেরো বছর বয়সে আমি আর আমার বন্ধুরা ক্রিকেট খেলতাম, কাঁচ ভাঙলে বাড়িতে বকুনি খেতাম। আর এখন? এখন ১৩ বছর বয়সেই খিস্তি-গালাগালি জলভাত হয়ে গেছে। ফেসবুকে যারা নিজেদের ‘ডিজিটাল ক্রিয়েটর’ বলছে, তারা দিনের পর দিন সমাজে কুপ্রভাব ফেলছে। অথচ প্রকৃত যৌনকর্মীদের তো সমাজের স্বীকৃতিই নেই!”

ঝিলমের পোস্ট ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ২ হাজারেরও বেশি বার শেয়ার হয়েছে। অনেকে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন।

একজন লেখেন—”এই প্রথম একজন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর এত স্পষ্টভাবে এই জঘন্য বিষয়টির প্রতিবাদ করলেন। ধন্যবাদ আপনাকে!”

আরেকজন মন্তব্য করেন—”ফেসবুকের নীতি কি শুধু সাধারণ কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য? অশ্লীল কনটেন্ট কি তাদের কমিউনিটি গাইডলাইন মেনে চলে?”

এক তৃতীয় ব্যক্তির মতে—”সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাবা-মায়েরা সঠিক শিক্ষা দিচ্ছেন না। রাস্তায় হাঁটা দায় হয়ে গেছে, কারণ সবাই কেবল গালাগালি শিখছে!”

ঝিলম গুপ্তের এই প্রতিবাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বড় প্রশ্ন তুলেছে— সোশ্যাল মিডিয়ার ভবিষ্যৎ কোন পথে? কেবল ভাইরাল হওয়ার জন্য অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করলে, তা কি সমাজের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে? এই ধরনের কনটেন্টের লাগাম টানা এখন সময়ের দাবি।