বিলাসী জীবনযাপনই কি শেষ পর্যন্ত ডোবাল দুই ভাইকে? ট্যাংরা ঘটনায় বেড়েই চলেছে রহস্য

ট্যাংরায় একসঙ্গে একই পরিবারের তিন নারী সদস্যের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড় নিচ্ছে তদন্ত। দে পরিবারের আর্থিক অবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে, বিশেষ করে অসাধারণ বিলাসী জীবনযাপন ও লাগামহীন ঋণগ্রহণ নিয়ে। প্রতিবেশী এবং আত্মীয়দের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝেও অত্যাধিক খরচ ও ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা ছিল এই পরিবারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, দে পরিবারের দুই ভাই প্রসূন ও প্রণয় গত কয়েক বছর ধরে জলের মতো টাকা খরচ করতেন। বছরে একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণ, দামি গাড়ি কেনার প্রবণতা, বিলাসবহুল জীবনযাপন—সব কিছুতেই ছিল মাত্রাতিরিক্ত খরচের ছাপ। গত ছয় মাসে তিনবার গাড়ি বদলেছেন তারা—এমনটাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অথচ, তাদের আর্থিক সংকটের কথা কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি।

দে পরিবারের প্রোটেকটিভ লেদার প্রাইভেট লিমিটেড নামে চামড়ার কারখানার যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রণয় ও প্রসূনের বাবার হাত ধরে। ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই ব্যবসা সফলভাবে চালালেও, তার মৃত্যুর পর দুই ভাইয়ের জীবনযাপনের ধরণ বদলে যায়। বিশেষ করে করোনা মহামারির পর থেকেই ব্যবসায় ক্ষতির মুখ দেখলেও তা সামাল না দিয়ে ঋণ নিয়ে বিলাসিতার অভ্যাস বজায় রাখেন তারা।

আত্মীয়দের মতে, ব্যবসার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এক ঋণ শোধ করতে আরেক ঋণ নিতে বাধ্য হন প্রসূন ও প্রণয়। ফলে দিনে দিনে ঋণের বোঝা তীব্র হতে থাকে। বিশাল ঋণগ্রহণের কারণে ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকেও চাপ বাড়তে থাকে তাদের ওপর। তবে আশ্চর্যের বিষয়, কারখানার শ্রমিকদের মতে, ব্যবসা মন্দা চললেও কর্মচারীদের বেতন কখনো আটকে রাখেননি দুই ভাই। পাওনাদারদেরও টাকা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন তারা।

এত ঋণ ও আর্থিক সংকট থাকা সত্ত্বেও কেন এই বিলাসী জীবনযাপন? আর ঠিক কী কারণে একসঙ্গে তিন নারী সদস্যের রহস্যমৃত্যু ঘটল?—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের ধারণা, অতিমাত্রায় ঋণগ্রহণ, আর্থিক চাপ এবং বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারাই হয়তো চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে দে পরিবারকে।

তদন্ত এখনও চলছে, তবে এই ঘটনার মূল কারণ আর্থিক অনিয়ন্ত্রণ কি না, সেটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।