ট্যাংরাকাণ্ডে রহস্য ঘনীভূত, খুন নাকি আত্মহত্যা? রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে চরম ধোঁয়াশায় পুলিশ

ট্যাংরায় এক পরিবারের তিন সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। খুন নাকি আত্মহত্যা— তা নিয়ে ধন্দে রয়েছে পুলিশ। দুই ভাই প্রণয় দে ও প্রসূণ দে-কে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, তাঁদের লেদার ব্যবসা ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন তাঁরা। তবে এই আর্থিক সংকটই কি পরিবারের মৃত্যুর কারণ, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য? তা জানতে তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশ।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, সোমবার রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ একটি চারচাকা গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সেই গাড়িতেই ছিলেন প্রণয় ও প্রসূণ। তাঁদের ঠিকানা খুঁজতে গিয়ে পুলিশ বাড়ির ভিতর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের স্ত্রী ও কন্যার মৃতদেহ উদ্ধার করে। তবে এঁদের হত্যা করা হয়েছে, নাকি তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন— সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় পুলিশ।
সূত্রের খবর, পুলিশের কাছে যে বয়ান দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, পরিবারটি ঘুমের ওষুধ খাওয়ার পর নিজেদের শরীরেই আঘাত করেছিলেন। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই বোঝা যাবে, তাঁরা নিজেরাই শরীরে আঘাত করেছেন নাকি বাইরের কেউ তাঁদের আঘাত করেছে।
প্রশ্ন উঠছে, বাড়ির তিন সদস্য আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিতেই কি দুই ভাই মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনও চক্রান্ত?
প্রতিবেশীদের দাবি, বাড়ির বড় ছেলের পুত্রও কিছুদিন আগে পথ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিল। সেই ঘটনাও যথেষ্ট রহস্যজনক বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা এবং এই রহস্যময় মৃত্যুর মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
কলকাতার নগরপাল মনোজ বর্মা জানিয়েছেন, “ঘটনার পিছনে আর্থিক সংকট অন্যতম কারণ হতে পারে, তবে পরিবারের মধ্যেই কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যা ছিল, যা এই ঘটনার কারণ হতে পারে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই প্রকৃত সত্য প্রকাশ্যে আসবে।”
এই মুহূর্তে পুলিশের তদন্তের মূল ফোকাস বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি দেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। শরীরে আঘাতের অভিমুখ জানলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত খুন। আপাতত গোটা ট্যাংরা এলাকাই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোড়িত।