“বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর আক্রমণ হয়েছে”- রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে মুখোশ খুলে গেল ইউনুস সরকারের

রাষ্ট্রসংঘের একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক হামলা ও হিংসার ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউনূস সরকারের আমলে হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসাকে অতিরঞ্জিত প্রচার বলে দাবি করলেও রাষ্ট্রসংঘের এই প্রতিবেদন সেই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছে।

রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার অফিসের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক হামলা শুরু হয়। হিন্দুদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং মন্দিরে হামলা চালানো হয়। এছাড়াও, আহমদিয়া মুসলিম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপরও একই ধরনের নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে।

রাষ্ট্রসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরপরই বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হিংস্র আক্রমণ শুরু হয়। ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর মাত্র তিন দিনের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ২০০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ৫টি হত্যাকাণ্ডও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনাগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অতিরঞ্জিত প্রচার বলে দাবি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এই ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রসংঘের প্রতিবেদনে এই দাবিকে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রসংঘের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ২ হাজারেরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও, হিন্দু মন্দিরে ১৫২টি হামলা এবং ২৩ জন হিন্দুর মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং সংসদে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ৭৬টি হামলার ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে।

রাষ্ট্রসংঘের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বেশ কিছু নির্দিষ্ট স্থানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বুরাশারডুবি, হাতিবান্ধা, লালমণিরহাট, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, সিলেট, খুলনা এবং রংপুর।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনাকে কঠোর ভাষায় নিন্দা করেছিলেন।

রাষ্ট্রসংঘের প্রতিবেদনে আহমদিয়া মুসলিম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সম্প্রদায়গুলিও হিংস্র জনতার আক্রমণের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া এবং উপাসনালয়ে হামলার ঘটনাও রয়েছে।

রাষ্ট্রসংঘের এই প্রতিবেদন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। হিন্দু, আহমদিয়া মুসলিম এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে তাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রসংঘের প্রতিবেদন এই অভিযোগগুলিকে আরও জোরদার করেছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের উচিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং হামলার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও উচিত বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।