হরমুজে ফের ইরান-আমেরিকার গুলি, মধ্যপ্রাচ্যে কি এবার শুরু হবে মহাযুদ্ধ?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ এবার আরও ঘনীভূত। দীর্ঘ উত্তেজনার পর এবার সরাসরি সমুদ্রপথে একে অপরের মুখোমুখি ইরান ও আমেরিকা। হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন নৌসেনা একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করার পরেই পালটা হামলা শুরু করেছে তেহরান। মার্কিন নৌবহর ও ভেসেলগুলিকে লক্ষ্য করে ইরানের একের পর এক ড্রোন হামলার খবর আসতেই বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সমুদ্রে ‘জলদস্যুতা’! অভিযোগ ইরানের
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, চিন থেকে ফেরা ‘টৌসকা’ নামক একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজের ওপর গুলি চালিয়ে সেটিকে কবজা করে মার্কিন বাহিনী। তেহরানের সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ এই ঘটনাকে ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, জাহাজটির নেভিগেশন ব্যবস্থা অকেজো করে দিয়ে জোরপূর্বক দখল নিয়েছে আমেরিকা, যা স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক নিয়ম ও যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও জাহাজের দখল
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সতর্কতা অমান্য করার কারণেই জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, জাহাজটি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কঠোর নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল এবং সেটি নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল। মার্কিন নৌবহর প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরে অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে।
ড্রোনের বৃষ্টিতে কাঁপছে মার্কিন নৌবহর
নিজেদের জাহাজ আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চরম বদলা নিতে শুরু করেছে ইরান। তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন ভেসেলগুলিকে টার্গেট করে শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এই হামলায় আমেরিকার কত বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই ড্রোন অ্যাটাকের জেরে গোটা হরমুজ প্রণালী এখন কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে।
শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পথে?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাতের রেশ বহুদূর গড়াতে পারে। ইরান ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইসলামাবাদে আমেরিকার সঙ্গে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসছে না। শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় এবং সরাসরি সামরিক হামলার পথে হাঁটায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের কালো মেঘে ঢাকা।
ভারতসহ বিশ্বের একাধিক দেশের কাছে হরমুজ প্রণালী তেলের প্রধান উৎস। এই জলপথ রুদ্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় বিপর্যয় আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।