মালিকের ৩৫ লক্ষ টাকার পরচুল নিয়ে উধাও শ্রমিক, বাংলায় ফের তুমুল শোরগোল

সরস্বতী পুজোর দিন সুযোগ বুঝে মালিকের কারখানায় রাখা প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকার পরচুল চুরি করে পালিয়ে গিয়েছিলেন এক কর্মী। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। চুরি যাওয়া চুল সমেত অভিযুক্তকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মারিশদায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মারিশদা থানার পশ্চিম পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা কমল দাস পরচুলের ব্যবসা করেন। তাঁর কারখানায় কাজ করতেন রাজু শেখ নামে এক যুবক, যার বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলায়। সরস্বতী পুজোর দিনে কমলবাবুর কারখানার অন্যান্য কর্মীরা ছুটিতে ছিলেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গভীর রাতে প্রায় ১৩৮ কেজি ওজনের পরচুল নিয়ে চম্পট দেন রাজু। চুরি যাওয়া ওই চুলের বাজার মূল্য প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা।

পরের দিন সকালে বিষয়টি নজরে আসতেই আতঙ্কে পড়ে যান কমল দাস। সঙ্গে সঙ্গে ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি মারিশদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

কীভাবে গ্রেপ্তার করা হলো?
অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। রাজু শেখের মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ জানতে পারে, তিনি মুর্শিদাবাদের নওদায় লুকিয়ে আছেন। ওসি বুদ্ধদেব মালের নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী টিম গঠন করা হয় এবং সেই টিম নওদায় গিয়ে অভিযুক্তকে পাকড়াও করে।

পুলিশ সূত্রে খবর, রাজু শেখ চুরি যাওয়া চুল শ্বশুরবাড়ির সংলগ্ন একটি গুদামে লুকিয়ে রেখেছিলেন। পুলিশ সেটি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আপাতত আদালতের নির্দেশে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন।

পুলিশের তৎপরতায় খুশি ব্যবসায়ী
অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন কমল দাস। তিনি জানান, “আমার ব্যবসার মূল সম্পদই এই চুল। যদি পুলিশ চুল উদ্ধার করতে না পারত, তাহলে আমার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেত। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে আমি কৃতজ্ঞ।”

এই ঘটনার পর কারখানার নিরাপত্তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন কমল দাস। স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশের প্রশংসা করেছেন, কারণ দ্রুত পদক্ষেপের ফলে এত বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেলেন এক ব্যবসায়ী।