“মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই শিরোধার্য”-TMC-র ক্যালেন্ডার-বিতর্ক নিয়ে স্পষ্ট বার্তা অভিষেকের

ক্যালেন্ডারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে বড় হওয়া নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই বিতর্কের মধ্যেই এবার নিজেই মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, ক্যালেন্ডারের বিতর্ক সম্পর্কে তার তেমন কোনো ধারণা নেই, তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ওই ক্যালেন্ডারে দুটো ছবি ছিল, এবং একটি ছবিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি অবশ্যই ছিল।
শুক্রবার, বাজেট অধিবেশনে অংশগ্রহণের আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অভিষেক বলেন, “আমি শুনেছি কিছু সংবাদমাধ্যম একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিকোণ থেকে খবরটা পরিবেশন করেছে। এটা ঠিক নয়। দলের তরফে একটি ক্যালেন্ডার দেওয়া হয়েছিল, যেটি ডায়মন্ড হারবারে বিতরণ করা হয়েছিল, অন্যটি পার্টির তরফে দেওয়া হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তই শিরোধার্য। তিনি ওই ক্যালেন্ডার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন এবং আমরা তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই।”
ক্যালেন্ডার বিতর্কের সূত্রপাত তখনই, যখন একটি ক্যালেন্ডারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির থেকে বড় ছিল। এই ঘটনাটি রাজ্য নেতৃত্বের কানে পৌঁছানোর পর ওই ক্যালেন্ডার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং পরে নতুন ক্যালেন্ডার পাঠানো হয়।
দিল্লি নির্বাচনের প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “বিজেপি বিরোধী প্রধান শক্তি সেখানে আম আদমি পার্টি। আমরা চাই আম আদমি পার্টি জয়ী হোক।”
২০২৫ সালের বাজেট প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “যতদিন এই সরকার থাকবে, ততদিন বাজেট নিয়ে কোনো আশা নেই। সাধারণ গরীব মানুষদের জন্য কোনো রিলিফ দেওয়া হয়নি। বাজেটের অর্থ শুধু উদ্যোক্তাদের জন্য, গরীব আরও গরীব হয়েছে, বড়লোক আরও বড়লোক হয়েছে।”
প্রয়াগরাজে কুম্ভমেলায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। এত মানুষ যায়, তাই এর জন্য একটি পরিকল্পনা এবং ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে শুধু মার্কেটিং হচ্ছে, বাস্তবিক কোনো পরিকল্পনা নেই। যদি এই ঘটনা বাংলা, তামিলনাড়ু বা অন্য কোনো বিজেপি বিরোধী রাজ্যে ঘটত, তাহলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার দাবি উঠত। এমনভাবে যাতায়াত ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোগপতিদের জন্য বিশেষ সুবিধা, সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই।”
অভিষেক আরও বলেন, “আশা করি, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেবে সরকার, কিন্তু বিজেপি সাধারণত কোনো ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয় না।”
এভাবে, একাধিক বিষয়ের ওপর নিজের মতামত ব্যক্ত করলেন অভিষেক, যা বর্তমানে রাজ্যের রাজনীতি এবং জাতীয় রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।