OMG! স্বামীর কিডনি বেচে টাকা–গয়না নিয়ে পালিয়ে গেলো স্ত্রী! ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিকও

প্রতারণার ঘটনা দাম্পত্যে নতুন নয়, তবে সম্প্রতি হাওড়ার সাঁকরাইল থেকে উঠে আসা এক মামলার খবর শোরগোল ফেলেছে। ৩৩ বছরের এক তরুণী স্বামীকে কিডনি বিক্রি করতে বাধ্য করে সেই টাকা ও গয়না নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে উধাও হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন ৩৯ বছরের স্বামী।
ঘটনার বিবরণ
সাঁকরাইলের এক ব্যক্তি কলকাতা হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস মামলা করেন, যেখানে তিনি অভিযোগ করেন যে, তাঁর স্ত্রী নিখোঁজ এবং তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত তরুণী লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি স্বেচ্ছায় স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে চলে গেছেন এবং এখন স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করছেন।
কিডনি বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
মামলাকারী ব্যক্তি দাবি করেছেন, স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ১২ বছরের মেয়ের ভবিষ্যৎ বিবাহের জন্য সোনার গয়না তৈরি করানোর চাপ দিচ্ছিলেন। এরপর ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে স্ত্রী তাঁকে কিডনি বিক্রি করতে বাধ্য করেন। এক রোগীর জন্য কিডনি বিক্রির প্রস্তাব এনে দেন তিনি। কিডনি বিক্রির বিনিময়ে ৫ লক্ষ টাকা স্বামীর অ্যাকাউন্টে ও ২ লক্ষ টাকা স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে আসে। এরপর ২৩ ডিসেম্বর স্ত্রী বাজার যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি।
হাইকোর্টের রায়
সোমবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, যেহেতু মহিলার হদিশ মিলেছে এবং তিনি স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার কথা লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তাই হেবিয়াস কর্পাস মামলা গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিযোগ ও আইনি জটিলতা
পরবর্তীতে স্বামী পুলিশের কাছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে এই ঘটনায় নতুন আইনি বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
কিছু আইনজীবীর মতে, কিডনি বিক্রি করা বেআইনি এবং এতে স্বামী নিজেও অপরাধ করেছেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠতে পারে।
অন্যদিকে, স্বামীর পক্ষের আইনজীবী সৌরভ মণ্ডল আদালতে দাবি করেন, স্ত্রী শুরু থেকেই তাঁকে প্রতারণা করেছেন এবং জোর করে কিডনি বিক্রি করিয়েছেন, ফলে স্বামী নিজেই প্রতারণার শিকার।
বর্তমান পরিস্থিতি
হাইকোর্টে মামলাটি খারিজ হলেও, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন মামলা চলতে পারে। রাজ্য সরকারের কৌঁসুলি রানা মুখোপাধ্যায় আদালতে পুলিশের কাছে থাকা তরুণীর মুচলেকা জমা দিয়েছেন।
এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সাঁকরাইল ও ব্যারাকপুর এলাকায়। পুলিশ মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আইনি লড়াই দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।