OMG! রিলস বানানোর নেশায় ট্রেনের ছাদে উঠলো কিশোর, ঝলসে মৃত্যু হলো পড়ুয়ার

স্মার্টফোনের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস তৈরি করার নেশা এমনভাবে কিশোরদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, যা এক সময় প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। পশ্চিম বর্ধমানের কেতুগ্রামের জ্ঞানদাস কাঁদরা স্টেশনে এমনই একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, যেখানে রিলস বানাতে গিয়ে ১৫ বছরের কিশোর মহম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী, যাকে সবাই দিসান বলে চিনত, প্রাণ হারাল।
সোমবার সকালে দিসান এবং তার দুই বন্ধু রিপু চৌধুরী ও সুজন শেখ কেতুগ্রামের খাঁজি গ্রামের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মোটরবাইক নিয়ে রেলস্টেশনে পৌঁছান। সেখানে, ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে রাখা একটি পরিত্যক্ত ট্রেনের কামরায় উঠে রিলস বানানোর জন্য মোবাইল নিয়ে ছবি তোলার কাজ শুরু করে দিসান। কিছু সময় পরই, মোবাইলটি হাতে তুলে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার হাত ওভারহেডের ২৫ হাজার ভোল্টেজের তারে ঠেকে যায়। মুহূর্তেই দিসান ঝলসে যায় এবং ট্রেনের ছাদে পড়ে গিয়ে আগুন ধরে যায়। আগুনের বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও রেলকর্মীরা এসে আগুন নেভান, তবে প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে দেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ রেলপুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে।
দিসানের বন্ধু রিপু চৌধুরী বলেন, “আমরা তাকে ট্রেনের ছাদে উঠতে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু সে আমাদের কথা না শুনে সেল্ফি তুলতে যায়। তারপরই ওই ঘটনা ঘটে।” স্টেশনের সাফাইকর্মী কল্যাণ মণ্ডল জানান, “আমরা বারবার নিষেধ করেছি, কিন্তু সে শুনতে চায়নি।”
দিসানের মা, লাভলি বেগম, জানান, “মোবাইল নিয়ে বাইরে থাকতে নিষেধ করতাম, কিন্তু সে শুনত না। আমি তাকে স্টেশনে যেতে নিষেধ করেছি, তবে সে শোনেনি। এখন সে আর ফিরে আসবে না।”
দিসানের মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকাহত। ছোট ভাই ইসমাইল ও বোন রূপসা সুলতানা দাদার মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। বাবা সুজন চৌধুরী, যিনি কলকাতায় একটি বেকারিতে কাজ করেন, খবর পেয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
এটি একটি ভীষণ মর্মান্তিক ঘটনা, যা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি এবং অল্প বয়সে অপ্রকৃত অবস্থানে গিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানাচ্ছে।