“ব্রায়ান লারারা যা পারেননি, তাই করছেন বর্তমান তারকারা”- আর যা বললেন অশ্বিন

৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ৩৮তম জাতীয় গেমসের প্রথম দিনেই সামনে এল নতুন ইতিহাস। পাকিস্তানে তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবার টেস্ট জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম টেস্টে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়ার পর, মুলতানের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা যেন বিপ্লব ঘটিয়ে দেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত স্পিন বোলিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিবিয়ানরা সিরিজে সমতা ফেরায়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৬৩ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪৪ রান সংগ্রহ করে। পাকিস্তান দলের প্রথম ইনিংসে লিড নিতে ব্যর্থ হয়ে ১৫৬ রানেই শেষ হয়। তবে, পাকিস্তান দলের দ্বিতীয় ইনিংসে জোমেল ওয়ারিকানদের স্পিনের সামনে তারা মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে যায়। এর ফলে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১২০ রানে জয়ী হয় এবং সিরিজ ড্র করতে সক্ষম হয়।
এই ঐতিহাসিক জয়ের পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন জোমেল ওয়ারিকান, যিনি ম্যাচে ৯টি উইকেট নেন। এছাড়া গুড়াকেশ মোতি, কেভিন সিনক্লেয়ারসহ অন্যান্য বোলাররাও ভালো পারফর্ম করেন। ক্রেগ ব্র্যাথওয়েটদের নেতৃত্বে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ঐতিহাসিক জয় ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে অনেক আলোচনা শুরু করেছে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই জয় ব্রায়ান লারা, কার্ল হুপারদের সময়ের সঙ্গে তুলনা টানছে ক্রিকেট অনুরাগীরা। তবে, ভারতের স্পিন বোলিং জাদুকর রবিচন্দ্রন অশ্বিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সেই সময়ের ক্রিকেট ও বর্তমান ক্রিকেটের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। অশ্বিনের মতে, অতীতের সময়ে অ্যাওয়ে টেস্ট ম্যাচ ড্র করা এক বড় কৃতিত্ব ছিল, তবে আজকের দিনে টেস্ট ম্যাচের ফলাফল খুব সহজেই নির্ধারণ করা যায়। বর্তমান ওয়টিসি (WTC) যুগে, প্রতিটি দেশের পিচ এখন এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে খেলার ফলাফল হবেই।
এদিকে, এক্স হ্যান্ডেলে এক ইউজার একটি পরিসংখ্যান শেয়ার করে দেখিয়েছেন, যেখানে ব্রায়ান লারা, কার্ল হুপার, শিবানারাইন চন্দ্রপাল, ডোয়েন ব্র্যাভো, ড্যারেন স্যামির মতো কিংবদন্তিরা ৮৫টি অ্যাওয়ে টেস্টে মাত্র ৯টি জয় পেয়ে ছিলেন। অন্যদিকে, বর্তমানে জ্যাসন হোল্ডার, ক্রেগ ব্র্যাথওয়েটরা ৪২টি অ্যাওয়ে টেস্টে ১০টি জয় পেয়েছেন।
এতসব বিতর্ক এবং পরিসংখ্যানের পর, রবিচন্দ্রন অশ্বিন জানিয়েছেন, “আগের সময়ের সঙ্গে বর্তমান সময়ের পার্থক্য বুঝতে হবে। ১৫ বছর আগে, টেস্ট ড্র এক ধরনের বড় কৃতিত্ব হিসেবে দেখা হত। কিন্তু এখন খেলার ফলাফল পাওয়াই অনেক সহজ হয়ে গেছে।”
ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ঐতিহাসিক জয় ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, আর তাদের বোলিং পারফরম্যান্স টেস্ট ক্রিকেটের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।