মেলেনি সরকারি গ্রান্ট, গ্রামবাসীদের উদ্যোগে আয়োজন হলো ভুরিভোজের

এই বছরও অর্থাভাবে থেমে যায়নি গড়বেতা-৩ ব্লকের ডুমুরগেড়িয়া জুনিয়র হাই স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। গত দু’বছর ধরে সরকারি কম্পোজিট গ্রান্ট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও, স্কুলের ক্রীড়া উৎসব চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যম। গ্রামের মানুষ, শিক্ষক ও স্বনির্ভর গোষ্ঠী মিলিয়ে এই আয়োজন করেছে, যা নিঃসন্দেহে এক অনুপ্রেরণা।
দুপুরে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে জমেছিল এক বিশাল অনুষ্ঠান। গ্রামবাসীরা একে অপরের সাহায্যে আয়োজন করেছে পেটপুরে মিড-ডে মিল, যা ছিল ভাত, ডাল, বাঁধাকপি, মাংস, মাছ, চাটনি, মিষ্টি এবং পাপড়ি। স্কুলের ছেলেমেয়েরা আনন্দ-উল্লাসে খেলা শেষে পুরস্কৃত হচ্ছিল। তাদের গলায় ঝুলছিল প্রতিযোগীর ব্যাজ, আর মাঠে হাসিখুশি মুখগুলো ছিল একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাতে ব্যস্ত।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, সমীরণ আচার্য বলেন, “বছর দুয়েক ধরে আমাদের স্কুলের কম্পোজিট গ্রান্ট আসেনি। অর্থাভাব সত্ত্বেও, আমাদের গ্রামের মানুষ প্রত্যেকটি মুহূর্তে পাশে দাঁড়িয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং তাদের এই ভালোবাসাই আজকের সফল আয়োজনের মূল কারণ।”
ডুমুরগেড়িয়া, চাঁদাবিলা, টেলটোকা, আগরি, মালিডাঙা, বেঙ্গাইশোল সহ আশেপাশের গ্রামগুলির বাসিন্দারা এই অনুষ্ঠানে নিজেদের অংশীদার হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। তারা চাল-ডাল, আনাজ-মাংস, মাছ-মিষ্টি, প্যান্ডেল, মাইক, পুরস্কারের জন্য টাকা, সবই দিয়েছিলেন।
স্কুলের পড়ুয়া সাথী আহির, অনুপ মাহাতো, মিনা মাহাতো, শুভ মাহাতোরা জানান, “খেলার সঙ্গে সঙ্গে খাবারের আয়োজনও ছিল অনেক মজার। সারা দিনটা খুব ভালো কাটল।”
গড়বেতা দক্ষিণ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক (এসআইএস) সুকুমার গোস্বামী বলেন, “প্রাথমিক এবং জুনিয়র স্কুলগুলির জন্য সরকারি গ্রান্ট না থাকলে, স্থানীয় মানুষদের এগিয়ে আসা সত্যিই প্রশংসনীয়। এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে শিক্ষার উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
এটি কেবল একটি বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ছিল না, বরং গ্রামবাসীদের ঐক্যের এক দৃষ্টান্ত, যেখানে সবাই মিলে স্কুলের জন্য কাজ করেছে। “শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে বিপ্লব,” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কথার বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠল ডুমুরগেড়িয়া স্কুল।