সরকারি হাসপাতালে ২ ট্রেনি নার্সের শ্লীলতাহানি, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলো পুলিশ

আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের এক পুরুষ নার্স রানা মালাকারকে দুই ট্রেনি নার্সের শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটলেও, শ্লীলতাহানির ঘটনা সম্পর্কে প্রথমে যথেষ্ট আলোচনা হয়নি। তবে সোমবারের মধ্যে তা সামনে আসে এবং হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।

জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত ছিলেন দুই ট্রেনি নার্স। এই সময় মত্ত অবস্থায় সেখানে উপস্থিত হন রানা মালাকার, যিনি হাসপাতালের পুরুষ নার্স। তিনি নার্সদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং তাদের শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করেন। রবিবার প্রজাতন্ত্র দিবসের কারণে তৎকালীন ঘটনায় বিশেষ শোরগোল হয়নি, তবে পরদিন, সোমবার, বিষয়টি হাসপাতালের নার্সিং ইন্সটিটিউটের প্রধান দীপ্তি কর চৌধুরীকে জানানো হয়। এরপর তিনি হাসপাতালে সুপার পরিতোষ মণ্ডল এবং সিএমওএইচ সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

সিএমওএইচ সুমিত গঙ্গোপাধ্যায় বিষয়টি জানার পর দ্রুত হাসপাতলে পৌঁছান। এই ঘটনায় ওই দুই নার্সের অভিভাবকরা হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানে দীপ্তি কর চৌধুরী অভিযুক্তের গ্রেফতারির দাবী তোলেন। এরপর সুপার পরিতোষ মণ্ডল রানা মালাকারের বিরুদ্ধে থানায় FIR দায়েরের নির্দেশ দেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আলিপুরদুয়ার থানায় মামলা দায়ের হয় এবং পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

হাসপাতালের কর্মীরা জানান, অভিযুক্ত রানা মালাকার প্রায়শই মত্ত অবস্থায় হাসপাতালে আসতেন এবং কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। এর আগেও তিনি মহিলা কর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছিলেন, তবে আগের ঘটনা গুলি নিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। কিন্তু ‘আরজি কর কাণ্ড’ (নার্সিং পেশায় যৌন হেনস্থার ঘটনায় প্রতিবাদের একটি নতুন দৃষ্টান্ত) পরবর্তী সময়ে নার্সরা যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখে গেছেন। এখন পুলিশও কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছে এবং এই ঘটনায় গাফিলতি করার সুযোগ নেই।

এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে পুরো হাসপাতাল এলাকার মধ্যে সৃষ্ট দুশ্চিন্তা এবং নার্সদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে, এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।