কাশ্মীরের গ্রামে ১৭ মৃত্যুর নেপথ্যে কোন অজানা রোগ? রহস্যভেদ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার একটি গ্রামে গত এক মাসে ১৭ জন মানুষের মৃত্যুর কারণ অবশেষে জানা গেল। কেন্দ্রীয় তদন্তে উঠে এসেছে, ক্যাডমিয়াম বিষক্রিয়ার ফলেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
গত ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকে রাজৌরির বাধাল গ্রামে এক অজানা রোগ দেখা দেয়, যাতে একের পর এক মানুষের মৃত্যু হতে থাকে। মৃতদের মধ্যে ১৪ জনই শিশু। চিকিৎসকরা প্রথমে জানিয়েছিলেন, মৃতদের শরীরে কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে।
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং সংবাদমাধ্যমে জানান, লখনৌয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টক্সিকোলজি রিসার্চে (Indian Institute of Toxicology Research) মৃত ও আক্রান্তদের শরীরের নমুনা পরীক্ষা করে ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, কীভাবে গ্রামবাসীদের শরীরে ক্যাডমিয়াম প্রবেশ করলো, তা খতিয়ে দেখা হবে এবং এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র থাকলে তাও তদন্ত করে দেখা হবে।
ক্যাডমিয়ামের বিপদ:
ক্যাডমিয়াম একটি অত্যন্ত বিষাক্ত পদার্থ। এটি দূষিত বাতাস, সংক্রমিত খাবার এবং জলের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে এবং মারাত্মক ক্ষতি করে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত:
গত সপ্তাহে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, এই মৃত্যুর কারণ নিউরোটক্সিন (neurotoxin)। আক্রান্তদের শরীরে একই ধরনের উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। রাজৌরির সরকারি মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ এএস ভাটিয়া জানান, এই ধরনের বিষ শরীরে প্রবেশ করলে ব্রেন সোয়েলিং বা এডেমা হতে পারে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজ়িস কন্ট্রোল (NCDC) এবং পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি থেকেও নমুনা পরীক্ষা করে মৃতদের শরীরে নিউরোটক্সিনের উপস্থিতি এবং ব্রেন হেমারেজের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রশাসনের তৎপরতা:
এই ঘটনার পর প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
মৃতদের সংস্পর্শে আসা ২০০ জনকে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে।
গোটা বাধাল গ্রামকে কনটেইনমেন্ট জ়োন ঘোষণা করা হয়েছে।
একাধিক পরিবারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র সরানো হয়েছে।
রাজৌরি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অতিরিক্ত শিশু ও অ্যানাস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞদের পাঠানো হয়েছে।
জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও সম্প্রতি ওই গ্রাম পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন:
কেন্দ্র ও কাশ্মীর সরকারের কাছে মৃতদের পরিবারের প্রশ্ন, কেন এত দেরিতে মৃত্যুর সঠিক কারণ খুঁজে বের করা হলো? গত দু’দিনে আরও ছয় শিশু একই রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রশাসন ক্যাডমিয়ামের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।