মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকে প্রশ্নফাঁস রুখতে ব্যবহার করা হবে আধুনিক প্রযুক্তি, কড়া বার্তা ব্রাত্য বসুর

স্কুল শিক্ষকদের জন্য সুখবর। ‘উৎসশ্রী’ পোর্টালে বদলির আবেদন প্রক্রিয়া বর্তমানে বন্ধ থাকলেও, আপস বদলি (মিউচুয়াল ট্রান্সফার) খুব শীঘ্রই চালু করতে চলেছে রাজ্য শিক্ষা দফতর। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বৃহস্পতিবার রাজারহাটে এক বেসরকারি স্কুলের অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ২০২৫ সাল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রুখতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “শিক্ষকদের আপস বদলি নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে ঠিক কবে থেকে এটা শুরু হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে খুব দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং শীঘ্রই তা চালু হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে আমরা আগের বিষয়গুলির পর্যালোচনা করব। সারপ্লাস ট্রান্সফারের ক্ষেত্রেও আমরা একটি নীতি নিয়ে আসব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেই সবটা চূড়ান্ত করা হবে।”
প্রতি বছর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এই প্রসঙ্গে ব্রাত্য বসু জানান, ২০২৪ সালে যে দুষ্কৃতী চক্র প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের ধরা হয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে প্রশ্নফাঁস রুখতে প্রশ্নপত্রে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ নিয়মিত জেলা প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছে। পরীক্ষা সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
অতীতে প্রশ্নফাঁসের একটি চক্র কাজ করত এবং মোটা টাকায় প্রশ্ন বিক্রি করত বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি সরকারি স্তরেও কিছু লোকের সঙ্গে এই চক্রের যোগসাজশ থাকার অভিযোগ ছিল। এই পদ্ধতির মাধ্যমে রাজ্য সরকারের বদনাম করার চেষ্টা করা হতো। তবে, এই পদ্ধতি এখন ধরে ফেলা হয়েছে এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিক্ষা দফতর আশাবাদী যে এর ফলে প্রশ্নফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটবে না। এখন দেখার বিষয়, এই বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কতটা সুরক্ষিত থাকে।