‘১০ উইকেট না পাওয়ার কোনো আক্ষেপ নেই’, মৃত পিতার স্বপ্ন পূরণ করাই প্রধান লক্ষ্য সিদ্ধার্থের

গুজরাটের স্পিনার সিদ্ধার্থ দেশাইয়ের অনবদ্য বোলিংয়ে ধরাশায়ী উত্তরাখণ্ড। আমদাবাদের গুজরাট কলেজ গ্রাউন্ডে রঞ্জি ট্রফির এলিট বি গ্রুপের ম্যাচে গুজরাট ও উত্তরাখণ্ডের মধ্যেকার খেলায় সিদ্ধার্থের স্পিন বিষে নীল হয়ে মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় উত্তরাখণ্ডের প্রথম ইনিংস। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলেও, সিদ্ধার্থের দাপটে মুখ থুবড়ে পড়ে উত্তরাখণ্ডের ব্যাটিং।

২৪ বছর বয়সী বাঁ-হাতি স্পিনার সিদ্ধার্থ দেশাই এদিন বল হাতে যেন অপ্রতিরোধ্য ছিলেন। উত্তরাখণ্ডের প্রথম ৯টি উইকেটই তুলে নেন তিনি। তবে শেষ উইকেটটি নেন বিশাল জসওয়াল, যার ফলে এক ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করা থেকে অল্পের জন্য বঞ্চিত হন সিদ্ধার্থ।

ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকারে সিদ্ধার্থ জানান, দলের প্রত্যেকেই চেয়েছিল শেষ উইকেটটিও তিনি পান। কিন্তু শেষ ব্যাটসম্যানের ভুলে তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “ইনিংসে ১০ উইকেট নিতে পারাটা অবশ্যই একটা বড় কৃতিত্ব। যখন আমার ৯ উইকেট ছিল, তখন অন্য প্রান্তের বোলার চেষ্টা করছিল যাতে আমি দশম উইকেটটি পাই। সেই জন্য সে অফ স্টাম্পের বাইরে লাগাতার বল করছিল। কিন্তু শেষের দিকের ব্যাটসম্যান ভুল করে ফেলে। সবার খারাপ লেগেছিল, কারণ তারা চাইছিল উইকেটটি আমি পাই। পরে সবাই আমায় অভিনন্দন জানিয়েছে এবং আরও বেশি উইকেট নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছে।”

নিজের সাফল্যের রহস্য উন্মোচন করে সিদ্ধার্থ জানান, উইকেট টু উইকেট বল করাই তার সাফল্যের মূল কারণ। শুধু তাই নয়, তার প্রধান লক্ষ্য ভারতের টেস্ট দলে জায়গা করে নেওয়া, কারণ এটি তার স্বর্গীয় পিতার স্বপ্ন ছিল। ১০ উইকেট না পাওয়ায় কোনো আক্ষেপ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি শুধু উইকেট টু উইকেট বল করে গেছি এবং ধৈর্য রেখেছি। আমার লক্ষ্য ছিল ৩ উইকেট নেওয়ার পর যেন আমি ফর্ম না হারাই। ৭ উইকেট নেওয়ার পর আমার মনে হয়েছিল আমি ১০ উইকেট নিতে পারব। ৯ উইকেট পাওয়াও একটা দারুণ অনুভূতি। এই মুহূর্তটা আমার ও আমার পরিবারের জন্য গর্বের। ভারতের টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, আমি সবকিছু করতে রাজি, কারণ এটা আমার স্বর্গীয় পিতার স্বপ্ন ছিল।”

সিদ্ধার্থের এই অসাধারণ পারফরম্যান্স রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ৯ উইকেট নিয়েও তিনি যেভাবে দলের সমর্থন ও নিজের লক্ষ্যের কথা বলেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।