স্তব্ধ বালি ব্রিজ, লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে গাড়ি, পায়ে হেঁটে ব্রিজ পারাপার নিত্যযাত্রীদের!

বালি ব্রিজের রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জেরে যাত্রী দুর্ভোগ যেন থামছেই না। বালিহल्ट ও বালি স্টেশনের মাঝে পাঁচিল তৈরি করা হলেও, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেনি বরং আরও বেড়েছে। শুক্রবার অফিসের ব্যস্ত সময়ে বালি ব্রিজের উপর যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বাধ্য হয়ে যাত্রীরা ব্রিজের উপর দিয়েই পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
বাস ধরার জন্য লম্বা পথ হাঁটতে না হয়, সেই যুক্তিতে বালিহल्ट ও বালি স্টেশনের মাঝে পাঁচিল তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যাত্রীদের অভিযোগ, পাঁচিল তৈরি হওয়ার পরেও তাদের আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত হাঁটতে হচ্ছে, এমনকি তার (fence) টপকেও বাসে উঠতে হচ্ছে। এক মহিলা যাত্রী জানান, “অসুবিধা কাল থেকে প্রচুর হচ্ছে। আজ তো বাসের পিছনে ছুটতে-ছুটতে অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।” আরেকজন যাত্রী বলেন, “আড়াই তিন কিলোমিটার হাঁটতে হচ্ছে। তারপর সেই তার পেরিয়ে আমরা বাসে উঠছি।”
অফিসের ব্যস্ত সময়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও চরমে ওঠে। ব্রিজের উপর গাড়ির দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। উপায় না দেখে হাজার হাজার মানুষ ব্রিজের উপর দিয়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে বাধ্য হন। এক নিত্যযাত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “তাড়াহুড়োর সময় যদি রাস্তা এইভাবে বন্ধ থাকে কী করব? কোন্নগর থেকে আমি আসছি। গোটা রাস্তা বন্ধ। বাধ্য হয়ে ব্রিজের উপর থেকেই হাঁটা শুরু করেছি।”
উল্লেখ্য, গত ২২শে জানুয়ারি রাত বারোটা থেকে ২৭শে জানুয়ারি ভোর চারটে পর্যন্ত বালি ব্রিজে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বালি ব্রিজের ট্রেন লাইনের মেরামতি এবং বালি সিসিআর ব্রিজে বালি হল্টের কাছে মেরামতির কাজ চলছে। রেললাইনের গার্ডার পরিবর্তনের জন্যই এই যান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু এই কাজের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা যে ব্যাহত হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। প্রশাসনের উচিত এই সময়ে যাত্রীদের সুবিধার জন্য আরও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।