বাবার অত্যাচারে ছাড়লেন বাড়ি, আশ্রয়দাতার হাতেই লাগাতার ধর্ষণ, যুবতীর যৌনাঙ্গে মিলল ব্লেড!

মুম্বইয়ে এক মর্মান্তিক ঘটনায়, পরিবারের অত্যাচারের কথা যাকে বিশ্বাস করে বলেছিলেন, সেই ব্যক্তির হাতেই নৃশংস অত্যাচারের শিকার হয়েছেন এক যুবতী। যুবতীর যৌনাঙ্গের ভিতরে প্লাস্টিকে মোড়া সার্জিক্যাল ব্লেড ও ছোট পাথরের টুকরো পাওয়া যাওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগে এক অটোচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে, পুলিশের সন্দেহের তীর এখন নির্যাতিতার দিকেও।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুম্বইয়ের একটি রেলস্টেশনের কাছে ওই যুবতীর সঙ্গে অটোচালকের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর যুবতী তাঁর জীবনের দুঃখের কথা খুলে বলেন। অটোচালক যুবতীকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১২ কিলোমিটার দূরে আরনালায় নিয়ে যায় এবং সেখানে দুইবার ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।
তবে, ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন পুলিশ তদন্ত শুরু করে। যুবতীর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অভিযুক্ত ব্যক্তি ধর্ষণ করলেও, যুবতীর যৌনাঙ্গে ব্লেড ঢোকানোর কাজটি সম্ভবত যুবতী নিজেই করেছেন। এই সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ যুবতীকে জেরা শুরু করেছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, নির্যাতিতা প্রথমে পুলিশকে জানিয়েছিল সে অনাথ এবং উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে তার বাড়ি। কাকার সঙ্গে সে মুম্বই এসেছিল এবং সেখানেই অটোচালকের সঙ্গে তার পরিচয়। কিন্তু পরে জানা যায়, যুবতী আসলে মুম্বইয়ের নালাসোপারার বাসিন্দা। পারিবারিক অশান্তি ও বাবার মারধরের কারণে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। সে তার বাবাকে জানিয়েছিল যে সে অন্যত্র চাকরি পেয়েছে এবং দূরে থাকার কারণে তার পক্ষে বাড়িতে থাকা সম্ভব নয়।
পুলিশের অনুমান, বাবার কাছে ফিরে গিয়ে পুনরায় নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভয়ে যুবতী নিজেই তার যৌনাঙ্গে ব্লেড ভরেছিল। পুলিশের সন্দেহ, যুবতীর মানসিক ভারসাম্য ঠিক নেই।
এই ঘটনায় বিশ্বাস, বিশ্বাসঘাতকতা এবং পারিবারিক নির্যাতনের এক জটিল চিত্র উঠে এসেছে। একদিকে যেমন একজন অসহায় যুবতী আশ্রয়দাতার হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তেমনই অন্যদিকে পুলিশের তদন্তে উঠে আসা তথ্য ঘটনার অন্য দিকও উন্মোচন করেছে। পুলিশ এখন সব দিক খতিয়ে দেখছে এবং সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে।