স্কুলে জলের মেশিন বসাতে খরচ ১ লাখ!-দুর্নীতির অভিযোগ পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে

তারকেশ্বরের চাঁপাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে পরিস্রুত পানীয় জলের প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জেলাজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। অভিযোগ, পঞ্চায়েত প্রতিটি স্কুলে প্রায় ৫০ হাজার টাকার বেশি দুর্নীতি করেছে।

প্রকল্পের বিবরণ ও অভিযোগ:

চাঁপাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলিতে পরিস্রুত পানীয় জলের জন্য অত্যাধুনিক মেশিন বসানোর প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। মোট ১১টি স্কুলে এই মেশিনগুলি বসানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে বাজারে এই মেশিনগুলির সর্বাধিক দাম ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা হলেও, প্রকল্পের নথিতে প্রতিটি মেশিনের মূল্য ৯৭ হাজার ৯০০ টাকা লেখা হয়েছে।

বিরোধীদের অভিযোগ, পঞ্চায়েত প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকার বেশি দুর্নীতি করেছে। স্কুলগুলিকে এই জলের মেশিন বসানোর জন্য অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। তাদের আরও অভিযোগ, তৃণমূল নেতারা এভাবেই সরকারি প্রকল্পের হিসেবে গরমিল করে কাটমানি খাচ্ছেন।

স্কুলগুলিতে বসানো জলের মেশিনগুলির বর্তমান বাজার দর ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা এবং এর সাথে আনুষঙ্গিক খরচ মেরেকেটে ৫ হাজার টাকা। মেশিন বসানোর জন্য অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যা স্কুলগুলি বহন করেছে। বিরোধীদের দাবি, হিসাব অনুযায়ী প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু সেখানে প্রায় এক লক্ষ টাকা ব্যয় দেখিয়ে আর্থিক দুর্নীতি করা হয়েছে।

বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য:

বিজেপি নেতা গণেশ চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, ‘চাঁপাডাঙা পঞ্চায়েতে দুর্নীতির পাহাড় জমে গিয়েছে। আমি প্রতিবাদ করেছি বলে উপপ্রধান তাঁর দলবল নিয়ে আমাকে ঘেরাও করে হুমকি দিয়েছেন। স্কুল পিছু ৫০ হাজার টাকা করে কাট মানি খেয়েছেন উপপ্রধান।’

সিপিএমের তারকেশ্বর ১ নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক তন্ময় জানা বলেন, ‘দুর্নীতি প্রমাণ হলেও কেউ কিছু করতে পারবেন না।’

দুটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনির্বাণ ঘোষ এবং সুব্রত হাজরা এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা শুধু জানিয়েছেন যে পঞ্চায়েত থেকে কাজ হয়েছে এবং তারা শুধু মেশিন ইনস্টল করেছেন।

চাঁপাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান লাল্টু চট্টোপাধ্যায় এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘ওঁরা কিছুই জানেন না। মেশিনের দাম প্রায় ৪৩ হাজার টাকা। সেখানে দাম দেওয়া হয়েছে ৩৬ হাজার টাকা। তার উপরে রয়েছে দুটি ফিল্টার, যার প্রত্যেকটির মূল্য ১৯ হাজার টাকা। এর উপরে মেন্টেন্যান্স চার্জ ও ১৪ শতাংশ জিএসটি চার্জ রয়েছে। এ বার বলুন সমালোচকদের হিসেব করে নিতে। কোথাও কোনও দুর্নীতি হয়নি।’

তারকেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কৃষ্ণা অধিকারী জানান, তিনি এখনও পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। তিনি বলেন, ‘শুধু মেশিনের দাম দেখলে হবে না, তার সঙ্গে আনুষঙ্গিক খরচও ধরতে হয়। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’