“২৪ ঘণ্টা ধরে সমুদ্র সৈকতে নজরদারি”-গঙ্গাসাগর মেলায় নজর কাড়ল বস্কো ও ম্যাক্সি

গঙ্গাসাগরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় বস্কো ও ম্যাক্সি, নজরদারিতে প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ জুটি

গঙ্গাসাগর, ১৭ জানুয়ারি: একদিকে উত্তরপ্রদেশে মহাকুম্ভ, অন্যদিকে বাংলায় গঙ্গাসাগর মেলা। এই দুই বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গঙ্গাসাগর মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে বস্কো এবং ম্যাক্সি নামের দুটি প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ।

নিরাপত্তার গুরুত্ব:

বাংলাদেশে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বিনা পাসপোর্টে কাঁটাতার পেরিয়ে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে গঙ্গাসাগর মেলায় নাশকতা এড়াতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন। বস্কো ও ম্যাক্সি এই নিরাপত্তার দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বসকো ও ম্যাক্সির পরিচয়:

বসকো ও ম্যাক্সি হল জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (NDRF) দুটি প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ। মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীর সমাগম হয়েছে গঙ্গাসাগরে। জেলা প্রশাসনের মতে, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত প্রায় ৮৫ লক্ষ মানুষ গঙ্গাসাগর মেলায় এসেছেন। এই বিশাল জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা বজায় রাখতে বস্কো ও ম্যাক্সি ২৪ ঘণ্টা সমুদ্র সৈকতে টহল দিচ্ছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা:

তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে:

স্থলভাগে প্রায় ১৩ হাজার পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
আকাশপথে হেলিকপ্টার ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চলছে।
জলপথে ওভারক্যাপ, স্পিডবোট এবং লাইভ বোর্ডের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
গোটা মেলা চত্বরে এক হাজারের বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
জলভাগের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও ভারতীয় নৌ বাহিনী।
বসকো ও ম্যাক্সির বিশেষ ভূমিকা:

এনডিআরএফের পক্ষ থেকে দুটি প্রশিক্ষিত সারমেয় (বসকো ও ম্যাক্সি) মেলায় আনা হয়েছে। তারা ২৪ ঘণ্টা গঙ্গাসাগরের সমুদ্র সৈকতে টহল দিয়ে নজরদারি করছে। জলপথেও তাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা:

দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটক ও শ্রদ্ধালুরা যাতে নির্বিঘ্নে গঙ্গাসাগরে স্নান পর্ব সেরে ফিরতে পারেন, তার জন্য বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।