‘বিষ’ স্যালাইনেই মৃত্যু নাকি ‘কাঁচা হাত’? প্রসূতি মৃত্যুর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন

মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মামণি রুইদাসের মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মামণির মৃত্যু হয়েছে মাল্টি অরগ্যান ফেলিওর ও সেপটিক শকের কারণে। তাঁর পেটে প্রায় ৭০০ মিলিলিটার এবং বুকে প্রায় ১.৫ লিটার রক্তমিশ্রিত ফ্লুইড পাওয়া গিয়েছিল, যা তাঁর মৃত্যুর কারণ। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য দফতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং সিআইডিও আলাদা করে তদন্ত শুরু করেছে।
তদন্তের অগ্রগতি:
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে ২ জন জুনিয়র ডাক্তার ও ৪ জন নার্সকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।সিআইডি-র তদন্তকারীরা হাসপাতালের সুপারের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
তদন্তের স্বার্থে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের গাইনোকলজি বিভাগের প্রধান মহম্মদ আলাউদ্দিন সহ কয়েকজন সিনিয়র ডাক্তারের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে।
রিঙ্গার্স ল্যাকটেট স্যালাইন বিতর্ক:
মামণি রুইদাসের মৃত্যুর ঘটনায় রিঙ্গার্স ল্যাকটেট স্যালাইনের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুধু মামণি নন, আরও ৪ জন প্রসূতি এই ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে একজন আপাতত কিছুটা সুস্থ হলেও বাকি তিনজনকে মেদিনীপুর থেকে কলকাতায় এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি:
এই ঘটনার তদন্তের জন্য ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি খতিয়ে দেখছে কার বা কাদের গাফিলতিতে এই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে এবং আরএল স্যালাইনের ব্যবহার এর জন্য দায়ী কিনা। কমিটি মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে গিয়ে কিছু ওষুধ ও স্যালাইনের নমুনা সংগ্রহ করেছে।
পিজিটি-দের অস্ত্রোপচারে নিষেধাজ্ঞা:
মেদিনীপুর মেডিকেলে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি (পিজিটি)-দের অস্ত্রোপচার করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। নতুন নির্দেশ অনুসারে, কোনো পিজিটি নিজে থেকে কোনো অস্ত্রোপচার ও অ্যানাস্থেসিয়া দেওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকতে পারবেন না। সিনিয়র চিকিৎসকদেরই এই কাজ করতে হবে। জুনিয়ররা কেবল সহকারী হিসেবে থাকতে পারবেন। যদি কোনো জুনিয়র ডাক্তার নিজে থেকে ওটি করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য সচিবের বক্তব্য:
মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ অভিযোগ করেছিলেন যে মেদিনীপুরে স্বাস্থ্য দফতরের ওটি প্রোটোকল মানা হয়নি। তিনি বলেন, “সব সময় একজন সিনিয়র চিকিৎসকের উপস্থিতিতেই ওটি করা উচিত। এই ঘটনায় ট্রেনি চিকিৎসকরাই বিষয়টি সামলেছেন। আমরা আগেই নির্দেশ দিয়েছিলাম ট্রেনি চিকিৎসকদের সিনিয়র চিকিৎসকদের অধীনে কাজ করতে হবে এবং তাঁদের ডিউটি রস্টার মেনে চলতে হবে। প্রাথমিক তদন্তে একটি গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।”