“চালের গুঁড়ো ও ময়দা মেশানো”-বস্তা বস্তা ভেজাল হলুদ মিলল বাংলায়

বাজারে রমরমিয়ে চলছে ভেজাল মশলার কারবার, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ নদিয়ার শান্তিপুর ব্লকের বাগআঁচড়া এলাকায় একটি ভেজাল হলুদের কারখানায় হানা দেয় এবং বিপুল পরিমাণ ভেজাল হলুদ উদ্ধার করে।

অভিযান ও উদ্ধার:

সোমবার রাতে শান্তিপুর থানার পুলিশ বাগআঁচড়া এলাকার লোকনাথ সাহার হলুদ তৈরির কারখানায় অভিযান চালায়। কারখানা থেকে ভেজাল হলুদ তৈরির সরঞ্জামসহ ২,২০০ কেজি ভেজাল হলুদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চালের গুঁড়ো ও ময়দা এবং রং মিশিয়ে এই ভেজাল হলুদ তৈরি করা হতো।

গ্রেফতার:

কারখানার মালিক লোকনাথ সাহা ও পরিতোষ মল্লিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করার পর গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশের সাংবাদিক বৈঠক ও ভেজাল হলুদ চেনার উপায়:

মঙ্গলবার শান্তিপুর থানায় রানাঘাট পুলিশ জেলার এসডিপিও সবিতা গোটিয়াল একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি জানান, এই ভেজাল হলুদ চালের গুঁড়ো, ময়দা এবং রং মিশিয়ে তৈরি করা হতো। তিনি জনসাধারণকে ভেজাল হলুদ চেনার কয়েকটি উপায় জানান:

জলের পরীক্ষা: ঈষদুষ্ণ জলে সামান্য হলুদ মেশান। খাঁটি হলুদ হলে জলের রং সামান্য হলুদ হবে এবং হলুদের গুঁড়ো নীচে থিতিয়ে পড়বে। ভেজাল হলুদ হলে জলের রং উজ্জ্বল হলুদ হবে।
হাতের তালুতে ঘষে পরীক্ষা: হাতের তালুতে সামান্য হলুদ নিয়ে বুড়ো আঙুল দিয়ে ১০-২০ সেকেন্ড ঘষুন। খাঁটি হলুদ হলে হাতের তালু হলুদ হয়ে যাবে।
পুলিশের পদক্ষেপ:

এসডিপিও সবিতা গোটিয়াল জানান, আগামী দিনে ভেজাল রুখতে রানাঘাট পুলিশ জেলা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, বাজারে উপলব্ধ হলুদের গুণমান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ কর্তৃক ভেজাল হলুদ চেনার উপায়গুলি প্রচার করার ফলে, ভোক্তারা এখন কিছুটা হলেও সচেতন হতে পারবেন।