আমেরিকাকে লাল চোখ চিনের! পশ্চিম এশিয়ায় অরাজকতা ছড়ানোর অভিযোগে তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি

পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ফের একবার সম্মুখসমরে বিশ্বের দুই মহাশক্তিধর দেশ— আমেরিকা ও চিন। চিনা বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি কড়া বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, ওই অঞ্চলে আমেরিকার সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বেজিংয়ের দাবি, ওয়াশিংটনের এই অতি-সক্রিয়তা সমগ্র পশ্চিম এশিয়াকে চরম অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
চিনের কড়া বার্তা: চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর পরিবর্তে আমেরিকা সেখানে কেবল নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করছে। চিনের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে:
-
বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ স্থানীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করছে।
-
আমেরিকার অস্ত্র সহায়তা ও সামরিক উপস্থিতি যুদ্ধের আগুনকে আরও উসকে দিচ্ছে।
-
সংলাপের পরিবর্তে শক্তির প্রদর্শন কোনো স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না।
চিন বনাম আমেরিকা সমীকরণ: সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, ইজরায়েল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে যে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তাতে আমেরিকা সরাসরি ইজরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, চিন নিজেকে শান্তিপ্রক্রিয়ার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার রণকৌশলকে চিন আন্তর্জাতিক শান্তির পরিপন্থী বলে দেগে দিয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব: বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬-এর এই সংকট কেবল পশ্চিম এশিয়ায় সীমাবদ্ধ নেই। চিন ও আমেরিকার এই বাক্যযুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারেও বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। আমেরিকা যদি তাদের অবস্থান থেকে সরে না আসে, তবে পালটা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছে বেজিং।
পেশাদার এডিটোরিয়াল নোট: পশ্চিম এশিয়ার এই দাবার বোর্ডে চিন এখন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। একদিকে আমেরিকার সামরিক দাপট, অন্যদিকে চিনের কূটনৈতিক চাপ— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে বিশ্বশান্তি এখন সুতোর ওপর ঝুলছে।