সেই তিমিরেই বাংলাদেশ, ৩টি হিন্দু মন্দিরে আটটি মূর্তি ভাঙচুর

বাংলাদেশে আবারও সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবার ময়মনসিংহ ও দিনাজপুর জেলায় তিনটি হিন্দু মন্দিরে মোট আটটি মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে।

ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় দুইটি এবং দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় একটি মন্দিরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, প্রথম ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার ভোরে বিলদোরা ইউনিয়নের পলাশকান্দা কালী মন্দিরে। সেখানে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ২৭ বছর বয়সী আলাল উদ্দিন নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে। ওসি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আলাল উদ্দিন তার অপরাধ স্বীকার করেছে। পরে তাকে ময়মনসিংহের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই ঘটনায় পলাশকান্দা কালী মন্দির কমিটির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার ভোরে হালুয়াঘাটের শকুয়াই ইউনিয়নের বোন্দেরপাড়া মন্দিরে। দুর্বৃত্তরা এই মন্দিরের দুইটি প্রতিমা ভেঙে ফেলে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি এবং কাউকে গ্রেফতারও করা হয়নি।

অন্যদিকে, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বাড়ি শাসন কালী মন্দিরে মঙ্গলবার পাঁচটি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়। মন্দির কমিটির সভাপতি জনার্দন রায় এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা এখানে এমন কাজ কখনও দেখিনি।’ স্থানীয় থানার ওসি আব্দুল গফুর জানান, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

এই ঘটনার পূর্বে, গত সপ্তাহে উত্তর বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলায় একটি হিন্দু মন্দির এবং হিন্দুদের বাড়িঘর ও দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করে। এছাড়াও, গত ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রামে তিনটি হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল।

ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং শুক্রবার লোকসভায় জানান, বাংলাদেশে চলতি বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ২,২০০টির বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার অধিকাংশই শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে ঘটেছে। তিনি আরও জানান, ২০২২ সালে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ৪৭টি, ২০২৩ সালে ৩০২টি এবং ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২,২০০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। তুলনায়, পাকিস্তানে ২০২২ সালে ২৪১টি, ২০২৩ সালে ১০৩টি এবং ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১১২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ছাড়া অন্য কোনো প্রতিবেশী দেশে হিন্দুদের ওপর সহিংসতার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এই ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।