“ভারতকে বিশ্বের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারের দখল নিতে হবে”-যা বললেন নিতিন গড়করি

কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়করি বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন যে ভারতীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির বর্তমানে যত গাড়ি উৎপাদন করার ক্ষমতা আছে, তার থেকে ১০ গুণ বেশি উৎপাদনের ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তিনি মনে করেন, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভারতের বিশ্বের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার দখল করা উচিত।
অষ্টম ক্যাটালিস্ট কনফারেন্স অন সাস্টেনেবিলিটি অফ ই-ভেহিকল ইন্ডাস্ট্রি—ইভেক্সপো ২০২৪-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা ক্রমেই বাড়বে। আর এটাই ভারতীয় ইভি শিল্পের সম্প্রসারণের সঠিক সময়।’
বর্তমানে ভারত বিশ্বের গাড়ি বাজারের তৃতীয় স্থানে থাকলেও, গড়করি জানান যে বৈদ্যুতিক গাড়ির হাত ধরে আগামী পাঁচ বছরে ভারত শীর্ষ স্থানে পৌঁছবে।
চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে, গুণমানের সঙ্গে আপস না করে কারখানা সম্প্রসারণের জন্য বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে পরামর্শ দিয়েছেন গড়করি।
তিনি আরও বলেন, ‘সমস্ত দেশ দূষণহীন বিদ্যুৎ (গ্রিন পাওয়ার) পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ মুহূর্তে ভারতের অনুকূল পরিবেশ এবং সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব বাজার দখল করতে গেলে গবেষণার মাধ্যমে নিত্যনতুন প্রযুক্তি আনতে হবে।’
গড়করি জোর দিয়ে বলেন যে বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে হলে ভারতের উন্নত প্রযুক্তি এবং গুণমানের প্রয়োজন।
বৈদ্যুতিক গাড়ি শুধুমাত্র দেশের সার্বিক গাড়ি শিল্পের সহায়ক হবে তাই নয়, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার নিয়েছে, সেই লক্ষ্য পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি মনে করেন।
গড়করি জানান, ‘বর্তমানে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির লাইফসাইকেল কস্ট ১১৫ ইউএস ডলার হলেও আগামী ছ’মাসের মধ্যে তা কমে ১০০ ইউএস ডলার হবে। আর সে কারণে ভারতেই লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি তৈরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টাটা, মারুতি এবং আদানির মতো সংস্থা ইতিমধ্যেই লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। বিশ্বে মোট যত লিথিয়াম রিজার্ভ রয়েছে তার ৬ শতাংশ এ দেশেও রয়েছে।’
লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির পাশাপাশি, মন্ত্রী সংস্থাগুলিকে গবেষণা করে সোডিয়াম-আয়ন এবং জিঙ্ক-আয়ন ব্যাটারি তৈরিতেও উৎসাহ দিয়েছেন।
বর্তমানে দেশে ১৬ হাজার ইভি চার্জিং সেন্টার রয়েছে এবং আরও ২,৮০০-টি চার্জিং সেন্টার তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি জানান।