বন্ধ হাসপাতালের এক্সরে ইউনিট, তুমুল ভোগান্তিতে দূর থেকে আগত রোগীরা

গত দুই দিন ধরে জলপাইগুড়ি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধীনে থাকা সদর হাসপাতালের এক্স-রে ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা। বাধ্য হয়ে তাদের চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের এক্স-রে ইউনিটে যেতে হচ্ছে, অথবা বেসরকারি ক্লিনিকের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।

কয়েক বছর আগে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের থ্যালাসেমিয়া বিভাগের নীচে পিপিপি মডেলে একটি ডিজিটাল এক্স-রে ইউনিট চালু করা হয়েছিল। বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই ইউনিট চালু হওয়ায় রোগীরা বেশ উপকৃত হচ্ছিলেন। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে জেলা হাসপাতালের অধিকাংশ বিভাগ স্থানান্তরিত হওয়ার পর সেখানেও একটি এক্স-রে ইউনিট চালু হওয়ায় জেলা হাসপাতালের ইউনিটে এক্স-রে করানোর সংখ্যা কিছুটা কমেছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও দৈনিক প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন রোগী এই ইউনিট থেকে এক্স-রে পরিষেবা পেতেন।

আজ শিশু বিভাগের বহির্বিভাগে (আউটডোর) এক্স-রে করাতে আসা রাজগঞ্জের রবি রায় জানান, ইউনিটের দরজা বন্ধ এবং দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর তিনি জানতে পারেন যে মেশিন খারাপ থাকার কারণে ইউনিটটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

ইউনিট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত শনিবার মেশিনটি খারাপ হয়েছে এবং তারপর থেকে শতাধিক রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সদর হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন খারাপ হওয়ায় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ইউনিটের উপর চাপ বেড়েছে। যদিও সেখানে সবরকম ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি কল্যাণ খাঁ। তিনি বলেন, “বিষয়টি ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য ভবনে জানানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এক্স-রে মেশিন ঠিক করার জন্য লোক পাঠানো হবে সে বিষয়ে এখনও কিছু বলা হয়নি।”

সংক্ষেপে, জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালের এক্স-রে পরিষেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ বিশেষ করে দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের কষ্টের সীমা নেই। দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।