মূল্যায়নে ডাহা ‘ফেল’ শাসকের ৩১ গ্রাম পঞ্চায়েত, জেনেনিন কি হবে শাস্তি?

রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তরের ২০২৩ সালের বার্ষিক মূল্যায়নে কোচবিহার জেলার ১২৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৩৫টি পঞ্চায়েত ‘ডাহা ফেল’ করেছে। এর ফলে এই পঞ্চায়েতগুলি ২০২৪ সালে রাজ্য সরকারের ইনসেনটিভ গ্রান্ট বাবদ প্রায় পাঁচ কোটি টাকার অনুদান থেকে বঞ্চিত হবে। এই অর্থ বরাদ্দ বাতিল হওয়ায় গ্রামীণ এলাকার রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হতে পারে।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ এই বিষয়ে বলেন, “টাকা পাওয়ার পরেও ঠিকমতো কাজ করতে না পারা এবং পরবর্তীতে বরাদ্দ হারানো পঞ্চায়েতগুলোর ব্যর্থতা। এতে গ্রামীণ এলাকার উন্নয়ন পিছিয়ে গেল। সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জানা গেছে, ‘ফেল’ করা ৩৫টি পঞ্চায়েতের মধ্যে ৩১টি তৃণমূল কংগ্রেস এবং ৪টি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দখলে রয়েছে। এমনিতেই একশো দিনের কাজ প্রায় বন্ধ, তার উপর পঞ্চদশ অর্থ কমিশন ছাড়া পঞ্চায়েতগুলো অন্য কোনো বরাদ্দ পায় না। একটি গ্রাম পঞ্চায়েতে বছরে গড়ে ৪০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়।
রাজ্য সরকার বিভিন্ন পঞ্চায়েতের কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী বছরের জন্য আর্থিক বরাদ্দ দেয়। বর্তমানে পঞ্চম আর্থিক বর্ষের টাকা পাওয়ার পরে পঞ্চায়েতগুলোর কাজের মূল্যায়ন ছয়টি শর্তের ভিত্তিতে শেষ হয়েছে। এই শর্তগুলি সঠিকভাবে পালন করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করা হয়। মূল্যায়নে উত্তীর্ণ পঞ্চায়েতগুলিকে পারফরম্যান্স বেসড ইনসেনটিভ গ্রান্ট দেওয়া হয়। আয়তন ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে একটি পঞ্চায়েত ৮ থেকে ১৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকে।
মূল্যায়ন পদ্ধতি:
পঞ্চায়েতগুলি সারা বছরে তাদের নিজস্ব তহবিল কতটা বাড়িয়েছে, পঞ্চম অর্থ কমিশন এবং পারফরম্যান্স গ্রান্টের টাকা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কতটা খরচ করেছে, অডিট হয়েছে কিনা এবং অডিটে কোনো বিরূপ মন্তব্য এসেছে কিনা – এই বিষয়গুলির ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা হয়। মূল্যায়নে কোনো পঞ্চায়েত ফেল করলে পরের বছর তারা কোনো অনুদান পায় না। ‘ফেল’ করা পঞ্চায়েতগুলোর মধ্যে অধিকাংশই তুফানগঞ্জ মহকুমায় অবস্থিত; সেখানে ১৩টি পঞ্চায়েতের কাজ সন্তোষজনক নয় বলে অভিযোগ।
কোচবিহার ২ ব্লকের গোপালপুর, দিনহাটা ১ ব্লকের গিতালদহ ২, তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের অন্দরান ফুলবাড়ি ২ এবং ধলপল ২ গ্রাম পঞ্চায়েত অডিটের কাগজপত্র ঠিকমতো জমা না দেওয়ার কারণে ‘ফেল’ করেছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর। জানা গেছে, অডিটে তাদের বিভিন্ন খরচের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
তৃণমূলের দখলে থাকা গুড়িয়াহাটি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রতি বর্মনের দাবি, “কীভাবে টাকা খরচ করতে হয় এবং হিসাব রাখতে হয়, তা প্রশাসনিক স্তরে ভালোভাবে বোঝানো হয়নি। কর্মী কম থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে সব কিছু আপলোড করা যায়নি, তাই এই ফল হয়েছে।” অন্যদিকে, বিজেপির দখলে থাকা শালবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনোরঞ্জন বাড়িয়া বলেন, “মাত্র একজন সরকারি কর্মী দিয়ে গোটা পঞ্চায়েত চলছে। আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি, তাই সবকিছু বুঝতে সময় লেগেছে, যার ফলে এমন ফলাফল হয়েছে।”