অঙ্গনওয়াড়িতে পাতে ডিম: বাঁকুড়ায় উধাও, পূর্ব বর্ধমানে দেওয়া হচ্ছে অর্ধেক

বাজারে ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় মিড-ডে মিল এবং আইসিডিএস (অঙ্গনওয়াড়ি) কেন্দ্রগুলির খাবারে ডিম দেওয়া নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। বরাদ্দ অর্থের সাথে বাজারদরের বিস্তর ফারাকের কারণে বাঁকুড়া জেলার বেশ কিছু আইসিডিএস কেন্দ্রে ইতিমধ্যেই ডিম দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এবং পূর্ব বর্ধমানেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে ডিমের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বাঁকুড়া জেলার তালড্যাংরা ব্লকে গত শুক্রবার থেকেই আইসিডিএস কেন্দ্রে ডিম দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার থেকে বাঁকুড়া শহরের একাধিক কেন্দ্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানেও ডিম দেওয়া একেবারে বন্ধ না হলেও, কোনো দিন অর্ধেক, কোনো দিন একটি ডিম ভেঙে আলুর সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে শিশুরা এবং গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েরা প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বাঁকুড়ায় ৫৭৩৯টি এবং পূর্ব বর্ধমানে ৬৮৫৩টি আইসিডিএস কেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিতে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের পাশাপাশি গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের পরিপূরক পুষ্টিযুক্ত খাবার দেওয়া হয়। সাধারণত, সপ্তাহে তিন দিন ভাত ও ডিম-আলুর ঝোল এবং বাকি তিন দিন খিচুড়ি ও মরশুমি সবজি দেওয়া হয়। গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েরা সপ্তাহে ছয় দিনই গোটা ডিম পান, যেখানে শিশুরা সপ্তাহে তিন দিন গোটা এবং তিন দিন অর্ধেক ডিম পায়।
কিন্তু বর্তমানে বাজারে ডিমের দাম আকাশছোঁয়া। প্রতি পিস ডিমের দাম আট টাকা, যেখানে সরকারি বরাদ্দ মাত্র সাড়ে ছয় টাকা। এই পরিস্থিতিতে আইসিডিএস কর্মীদের পক্ষে ডিম কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তালড্যাংরা ব্লকের এক কর্মী শিখা নিয়োগী জানান, বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনো ফল হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই ডিম দেওয়া বন্ধ করতে হয়েছে। বর্ধমান-২ ব্লকের কর্মী মল্লিকা ঘোষ জানান, পাইকারি বাজারেও প্রতি পিস ডিমের দাম ৭ টাকা ৩৩ পয়সা, যা সরকারি বরাদ্দ থেকে প্রায় এক টাকা বেশি।
শুধু ডিম নয়, সবজির জন্য বরাদ্দ ৮৪ পয়সা এবং জ্বালানির জন্য দৈনিক বরাদ্দ ১৭ থেকে ২৩ টাকাও অপ্রতুল বলে জানাচ্ছেন কর্মীরা। বাঁকুড়া শহরের কর্মী রিঙ্কু রায় চন্দ জানান, ২০১২ সালের পর থেকে জ্বালানি বিলের কোনো পরিবর্তন হয়নি, অথচ জ্বালানির দাম অনেক বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় তাদের সামান্য বেতনের একটি অংশ জ্বালানির পেছনে খরচ করতে হচ্ছে।
সোমবার পূর্ব বর্ধমানের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা এই পরিস্থিতির কথা জানিয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসকের (শিক্ষা) কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। ভাতার ব্লকের এক কর্মী লিপিকা সরকার বলেন, বরাদ্দ না বাড়ানো হলে তাদের পক্ষে কেন্দ্র চালানো সম্ভব হবে না। বাঁকুড়ার জেলা প্রকল্প আধিকারিক নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায় জানান, কর্মীদের দাবি রাজ্য স্তরের ডাইরেক্টরেটে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে শিশুদের পুষ্টির অভাব না হয়।