“চলুন সবাই রাত জাগি’- বন্যা মোকাবিলায় রাজ্যের মন্ত্রী দিলেন অভিনব প্রস্তাব

নিম্নচাপ এবং জলাধার থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়ার ফলে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। বিশেষ করে, মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধ থেকে জল ছাড়ার ফলে বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং দুই ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

জলস্তর: রূপনারায়ণ, দ্বারকেশর, শিলাবতী, কেলেঘাই, কপালেশ্বরী, দুর্বাচটি সহ অন্যান্য নদীর জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি।

ক্ষয়ক্ষতি: এখনও পর্যন্ত দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।

সরকারি পদক্ষেপ:

মুখ্যমন্ত্রী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং জেলাশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দলগুলোকে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে।আশ্রয়শিবিরে ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।নবান্নে এবং প্রতিটি জেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

সেচমন্ত্রী মানস মানস ভুঁইয়া ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আজ রাত্রি থেকে চলুন আমরা সবাই রাত জাগি, সজাগ থাকি। ঘাটাল মহকুমা এবং আরামবাগ মহাকুমার সবাইকে রক্ষা করি। ডিবিসির ২ লাখ ৫০ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে। আমাদের মানবদরদী মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিদ্রাহীন, ক্লান্তিহীন সময় কাটিয়ে এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে আমাদের রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। আজ রাত, কাল রাতদিন আর পরশু মানুষকে বাঁচানোর লড়াইটা করি। আমরা অনেক বিশ্রাম নিয়েছি। আসুন এবার মানুষের জন্য রাত জাগি।’

সেচমন্ত্রীর আবেদন:
সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া সকলকে রাত জেগে এই বিপর্যয় মোকাবিলায় সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করেছেন।

সেচমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে কিছু মহল আরেকটি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করেছে। আগে একটি আন্দোলনের সময় রাত জাগার ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেচমন্ত্রীর এই বক্তব্য সেই আন্দোলনের প্রতি কটাক্ষ বলে অনেকে মনে করছেন।