নার্সকে ‘আই লাভ ইউ’ লিখে জেলে গেলেন যুবক, জেনেনিন পুরো ঘটনা

প্রেমে পড়তে কোনো সময় বা জায়গা বাধা হতে পারে না। যাকে ভালোবাসা, তাকে সে কথা না বলা কী সম্ভব? শেখ শাহনুলও নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি। সাদা কাগজে লাল কালিতে লেখা তিনটি শব্দ তার মনের ভাব প্রকাশ করেছিল। কিন্তু পরিণতিটা ভয়ানক হয়েছিল। একজন নার্সকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনা অনেকের মনে প্রশ্ন তুলেছে, প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া কি অপরাধ?

প্রেমে পড়ার কি আর স্থান-কাল হয়? মনের মানুষটির দেখা পেলে তাকে গোপন কথাটি না-জানিয়ে থাকা সম্ভব? শেখ শাহনুলও থাকতে পারেননি। সাদা কাগজে, লাল কালিতে ঝরে পড়েছিল সেই অমোঘ তিন শব্দ। পরিণাম? আপাতত ঠাঁই শ্রীঘরে! নার্সকে লাভ লেটার দিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। সরকারি জায়গায় ‘আপত্তিকর’ কাজের অভিযোগ আনা হয়েছে। আর এ কথা শুনে অনেকেরই প্রশ্ন, লাভ লাভ লেটার দেওয়া আপত্তিজনক? প্রেম তা হলে গেল কোথায়!বাবা ভর্তি অর্থোপেডিক বিভাগে। হাসপাতালের নিয়ম, রোগীর সঙ্গে কাউকে থাকতে হবে। তাই বজবজ ইএসআই হাসপাতালে রোজ রাতে যেতেন শাহনুল। গত কয়েক দিন ধরেই এটাই রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ঠিক যেমন হাসপাতালের ডিউটি রস্টার মেনে নাইট ডিউটিতে এই ক’দিন আসতেন অভিযোগকারিণী।

সোমবার রাতেও হাসপাতালে আসেন শাহনুল। বাবার বেডের পাশে বসেছিলেন। ডিউটিতে আসেন ওই নার্সও। কিন্তু তিনি টেরই পাননি, এই কয়েক দিনে তাঁকে মন দিয়ে বসে আছেন তাঁর সেবায় থাকা রোগীর ছেলে। শাহনুলের কিন্তু আবার একেবারে ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’! আর সে কথা চুপিচুপি নিবেদন করতে গিয়ে হিসেবে খানিকটা ভুল করে ফেলেন তিনি। আর তাতেই সব গোলমাল হয়ে গেল।

সোমবার রাতে যখন নার্সদের চেঞ্জ রুম তালাবন্ধ, তখনই দরজার ফোকর গলিয়ে টুক করে প্রেম-বার্তা ঠেলে দেন ভিতরে। অভিযোগকারিণী নার্স মঙ্গলবার সকালে ডিউটি শেষে চেঞ্জ রুমে ঢুকেই পায়ের কাছে সাদা কাগজ দেখে কুড়িয়ে নেন। ভাঁজ খুলতেই চোখ কপালে! খানিকটা ধাতস্থ হয়ে বেরিয়ে আসেন। ওয়ার্ডে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, শাহনুল কে?

আর তার পরেই ঘটে যায় পরবর্তী ঘটনা।