“সত্যি বলছে, নাকি মিথ্যে ?”-জেনেনিন পলিগ্রাফ টেস্ট কী ? কতটা নির্ভরযোগ্য?

আরজি কর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সিবিআই সন্দীপ ঘোষকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে তাঁর উত্তরগুলোতে সিবিআই সন্তুষ্ট নয় বলে মনে করা হচ্ছে। এই কারণেই সন্দীপ ঘোষের পাশাপাশি, মৃতার সঙ্গে শেষ ডিনার করেছিলেন এমন চারজন ইন্টার্ন ডাক্তারের পলিগ্রাফ টেস্ট করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিবিআই।
বৃহস্পতিবার আদালত এই অনুরোধ মঞ্জুর করেছে। পলিগ্রাফ টেস্টে একজন ব্যক্তির শারীরিক প্রতিক্রিয়া পরিমাপ করা হয়। মিথ্যা বললে শারীরিক প্রতিক্রিয়ায় পরিবর্তন হয়, যা এই পরীক্ষায় ধরা পড়ে।
সিবিআই মনে করছে, এই টেস্টের মাধ্যমে তারা জানতে পারবে যে, জেরার সময় সন্দীপ ঘোষ এবং অন্যরা যেসব তথ্য দিয়েছেন, সেগুলি সত্যি কি না।
পলিগ্রাফ টেস্ট কী?
পলিগ্রাফ টেস্টকে মিথ্যাচার সনাক্তকারী যন্ত্রও বলা হয়। এই পরীক্ষায় একজন ব্যক্তির শারীরিক পরিবর্তনগুলি মাপা হয় যখন তিনি প্রশ্নের উত্তর দেন। যখন কেউ মিথ্যা বলে, তখন তার হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি এবং ঘামের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। এই শারীরিক পরিবর্তনগুলি একটি গ্রাফে রেকর্ড করা হয়।
কীভাবে কাজ করে?
এই পরীক্ষায় বিশেষ ধরনের সেন্সর ব্যবহার করা হয়। এই সেন্সরগুলি ব্যক্তির শরীরে সংযুক্ত করা হয় এবং তার শারীরিক পরিবর্তনগুলি মাপে। যেমন, একজন ব্যক্তি যখন একটি প্রশ্নের উত্তর দেয়, তখন তার হৃদস্পন্দন বাড়লে সেন্সর তা ধরে নেবে এবং গ্রাফে দেখাবে।
কেন পলিগ্রাফ টেস্ট?
সত্যতা যাচাই: কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে এই পরীক্ষা করা হয়।
তদন্ত সহায়তা: পুলিশ বা অন্য তদন্তকারী সংস্থাগুলি এই পরীক্ষার সাহায্যে তদন্তে সহায়তা নিতে পারে।
কেন সবসময় সঠিক নয়?
মানসিক চাপ: অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণেও শারীরিক পরিবর্তন হতে পারে, যা ভুল ফলাফল দেখাতে পারে।
পরীক্ষার পরিস্থিতি: পরীক্ষার পরিবেশ যদি তनावপূর্ণ হয়, তাহলে তা ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।
পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা: এই পরীক্ষাটি পুরোপুরি নির্ভুল নয়। অনেক কারণে ফলাফল ভুল হতে পারে।
মনে রাখবেন: পলিগ্রাফ টেস্ট একটি বিশেষ ধরনের পরীক্ষা এবং এর ফলাফলকে একমাত্র প্রমাণ হিসেবে ধরা হয় না। আদালতে এই পরীক্ষার ফলাফলকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয় না।