ইডি অভিষেককে আপাতত দিল্লিতে ডাকতে পারবে না, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট একটি অন্তর্বর্তী আদেশে বলেছে যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার স্ত্রী রুজিরা ব্যানার্জীকে কয়লা চোরাচালান মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আপাতত দিল্লিতে ডাকতে পারবে না। কয়লা চোরাচালান মামলায় ইডির সমনকে চ্যালেঞ্জ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং তার স্ত্রী দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন।

এদিন সব পক্ষের বক্তব্য শুনে সুপ্রিম কোর্ট তার সিদ্ধান্ত সংরক্ষন করে তবে তার আগে দুজনকে জেরা করতে চাইলে কলকাতায় করতে হবে। এ ছাড়া এই মামলায় অভিষেকের ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়কে কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া নিরাপত্তাও আপাতত বজায় রাখা হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানিয়েছে। ততদিন এই নিরাপত্তা বহাল থাকবে।

অভিষেকের তরফে সওয়াল করতে গিয়ে বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিবাল প্রশ্ন তোলেন প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের (পিএমএলএ) আওতায় তাঁকে তলব করার যৌক্তিকতা নিয়ে৷ সিবালের প্রশ্ন, ‘পিএমএলএ-র ৫০ নম্বর ধারা অনুযায়ী শুধু সমন করার অধিকার দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু আমার মক্কেলকে কেন কলকাতায় জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না? এই মর্মে আইনে কোথায় নির্দেশিকা আছে? কেন বারবার আমার মক্কেলকে দিল্লিতেই ডেকে কথা বলতে হবে? আইন তো সেই অধিকার দেয়নি৷’

ইডির তরফ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, “তৃণমূল সাংসদ অভিষেকের বাসভবন দিল্লিতে। সেই কারণে তাঁকে দিল্লিতে তলব করার মধ্যে কোনও অসুবিধা নেই।”

এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে সিবাল সওয়াল করেন, ‘বাড়ির ঠিকানা বললে সাংসদের বাসভবন বোঝায় না, তার অর্থ হলো স্থায়ী ঠিকানা৷ সাংসদের বাসভবন সারা জীবনের জন্য হয় না৷ সংসদের অধিবেশন চলার সময়ে সাংসদরা দিল্লিতে আসেন, অধিবেশন শেষ হলে তাঁরা ফিরে যান৷ সাংসদ না থাকলে তাঁর এই বাসভবনও থাকবে না৷ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থায়ী ঠিকানা হলো কলকাতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট৷’