ডিজিটাল যুগে ‘লুপ্তপ্রায়’ ব্যাঙ্কের করণিক পদ, ব্যাঙ্ক গুলিতে কমছে পদের সংখ্যা

ভারতের ব্যাঙ্কিং খাত ডিজিটাল বিপ্লবের মুখোমুখি হয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এক দশক আগে ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রসার শুরু হওয়ার পর থেকে ব্যাঙ্কগুলি পুরোদমে এই প্রযুক্তিকে আলিঙ্গন করেছে। এর ফলে ব্যাঙ্কের কাজের ধরন বদলে গেছে এবং কর্মীদের দক্ষতার ওপর নতুন চাহিদা তৈরি হয়েছে।
কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব:
ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে ব্যাঙ্কের অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয় হয়ে গিয়েছে। এর ফলে ক্লার্ক এবং অন্যান্য নিম্নস্তরের কর্মচারীর চাহিদা কমে গেছে। ব্যাঙ্কগুলি এখন প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন কর্মচারীদের বেশি করে নিয়োগ দিচ্ছে।আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার বাড়ার ফলে ব্যাঙ্কিং সেবা আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং কর্মচারীদের নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হচ্ছে। প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন কর্মীদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়লেও, অন্যান্য ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাচ্ছে।
প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই বাড়তে থাকায় ব্যাঙ্কে আধিকারিক এবং সহায়ক কর্মীর মধ্যের অনুপাত কমে গিয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবর্ষে এই অনুপাত যেখানে ৫০:৫০ ছিল, সেটাই ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে কমে ৭৪:২৬ হয়েছে।
আরবিআইয়ের মূল্যায়ন:
আরবিআই মনে করে যে, ব্যাঙ্কগুলিকে কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগ করতে হবে। ব্যাঙ্কগুলিকে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে শিখতে হবে। ডিজিটাইজেশনের ফলে কর্মসংস্থানের বৈষম্য বাড়ছে।
ভবিষ্যৎ দিক:
ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে জিডিপির ২০% অবদান রাখবে।ডিজিটাল বিপ্লবের ফলে নতুন ধরনের চাকরির সৃষ্টি হবে।কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে।
ডিজিটাল বিপ্লব ব্যাঙ্কিং খাতকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হলে কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং ব্যাঙ্কগুলিকে নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে।