রাশিয়াবিরোধী সংবাদ প্রচারের অভিযোগ, ৮১টি চ্যানেলকে নিষিদ্ধ করলো মস্কো

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ভুক্ত দেশের ৮১টি গণমাধ্যম নিষিদ্ধ করেছে রাশিয়া। দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়াবিরোধী সংবাদ প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে এই গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে। এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও তারা অসত্য তথ্য দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রাশিয়ার। ফলে রুশ জনগণ এখন আর এসব গণমাধ্যম দেখতে পারবেন না।

বুধবার (২৬ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

গত মে মাসে ইউক্রেনের যুদ্ধ সম্পর্কে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ২৭ সদস্যের ব্লক ইইউ চারটি রুশ গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। তার প্রতিক্রিয়ায় রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ইইউভুক্ত দেশগুলোর গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেছে যে, ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কে সম্পর্কে পদ্ধতিগতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে এমন গণমাধ্যমের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করছে মস্কো।

বিদ্যমান উত্তেজনার জন্য ইইউ নেতৃত্বকে দায়ী করে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে যে, রাশিয়া বারবার এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সতর্ক করেছে যে, দেশীয় সাংবাদিকদের রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি এবং ইইউতে রুশ গণমাধ্যমের ওপর ভিত্তিহীন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এমনি এমনি ছেড়ে দেওয়া হবে না।

রুশ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে ইউরোপের ২৫টি দেশের গণমাধ্যম এবং ইউরোপভিত্তিক রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো। ফরাসি গণমাধ্যমগুলোর ওপর এসেছে সবচেয়ে বেশি ৯টি নিষেধাজ্ঞা। এর মধ্যে এএফপি, লে মন্ডে এবং লিবারেশনও রয়েছে।

জার্মানির দের স্পিগেল, স্প্যানিশ এল পাইস এবং এল মুন্ডো, ফিনল্যান্ডের ইলে, আইরিশ জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই এবং ইতালির আরএআই টেলিভিশন চ্যানেল এবং লা রিপাবলিকা সংবাদপত্র রয়েছে রুশ নিষেধাজ্ঞার আওতায়।

মস্কো বলেছে, রুশ গণমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে তারাও ইইউর গণমাধ্যমগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে।

গত মাসে ভয়েস অব ইউরোপ, আরআইএ নিউজ এজেন্সি, ইজভেস্টিয়া এবং রসিয়স্কায়া গাজেটার বিরুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ এনে নিষিদ্ধ করে ইইউ।

রুশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মিত্র ব্যাচেস্লাভ ভোলোদিন মে মাসে বলেছিলেন যে, ইইউর এই পদক্ষেপ দেখিয়েছে যে—পশ্চিমারা প্রকাশ্যে বাক স্বাধীনতা নিয়ে অনেক কথা বললেও এখনো ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাক স্বাধীনতাকে গ্রহণ করতে পারে না।