নেপথ্যে হরর গেমের হাতছানি? কিশোরের রহস্যমৃত্যু ফেরাল ব্লু হোয়েল-এর পুরোনো স্মৃতি

সোমবার, বারুইপুরের দত্ত পাড়ার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ১৪ বছর বয়সী সাগ্নিক নস্কর নামে এক কিশোরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।সাগ্নিক নর্থ পয়েন্ট হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।পরিবারের তরফে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

সাগ্নিকের পরিবারের দাবি, সে ‘হরর গেম’ খেলার আসক্ত ছিল।তারা মনে করেন, এই গেমের প্রভাবেই সে আত্মহত্যা করেছে।
পুলিশ এই দাবি তদন্ত করছে।

পুলিশের বক্তব্য:
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সাগ্নিক কয়েকদিন ধরেই অলৌকিক শক্তির ভয়ে ভুগছিল।তার পরিবার তাকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।পুলিশ সকল দিক তদন্ত করে মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করার চেষ্টা করছে।

চিন্তার বিষয়:
এই ঘটনা ‘হরর গেম’-এর বিপজ্জনক প্রভাবের দিকে আলোকপাত করে।অভিভাবকদের সন্তানদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরণের গেম কিশোর-কিশোরীদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে এবং তাদের আত্মহত্যার পথে ধাবিত করতে পারে।

পূর্ববর্তী ঘটনা:
২০১৭ সালে, ‘ব্লু হোয়েল’ নামে একটি ‘হরর গেম’-এর সাথে যুক্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কিশোর-কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল।এই ঘটনার পর পুলিশ সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করেছিল।’মোমো’ নামে আরেকটি ‘হরর গেম’ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল।

সচেতনতার প্রয়োজন:
এই ঘটনাগুলি ‘হরর গেম’-এর বিপজ্জনক প্রভাবের দিকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদের ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর নজর রাখা এবং তাদের ‘হরর গেম’-এর বিপদ সম্পর্কে সচেতন করা।স্কুলগুলিতেও এই বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করার জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত।