দার্জিলিং-সিকিমে পর্যটকদের দুর্ভোগ: হোটেল-গাড়ি ভাড়ায় লুট, প্রশাসনিক গাফিলতি

গত সপ্তাহে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক সিকিম ভ্রমণ করেছেন। হ্রদ বিপর্যয়ের পর এটি ইতিবাচক খবর হলেও, পর্যটকদের অভিজ্ঞতা হতাশাজনক। হোটেল ও গাড়ি ভাড়ায় চড়া দাম, প্রশাসনিক গাফিলতি – সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি।

গ্যাংটকের এমজি রোডে বেশ কয়েকজন পর্যটক রাত কাটিয়েছেন খোলা আকাশের নীচে। কারণ হোটেলে জায়গা না পাওয়া। দার্জিলিং-এও একই চিত্র। পর্যটন দপ্তর কিছু পর্যটককে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেও, বেশিরভাগই হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন।

অভিযোগ, হোটেল ও গাড়ি ভাড়ায় চলছে চড়া দাম। গ্যাংটকে বাজেট হোটেলেও রুম ভাড়া তিন হাজার টাকা। গাড়ি ভাড়াও আকাশছোঁয়া। শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক যেতে ৮ হাজার টাকা! অনেকেই অভিযোগ করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

হ্রদ বিপর্যয়ের পর উত্তর সিকিমের অনেক রাস্তা বন্ধ। ফলে গ্যাংটকে পর্যটকদের চাপ বেড়েছে। এই সুযোগে হোটেল ও গাড়ি ভাড়ায় লুটপাট চালাচ্ছে অসৎ ব্যবসায়ীরা।

পর্যটন শিল্পের সংগঠনগুলি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক ও হিমালয়া ট্রাভেলস অ্যান্ড অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন চিঠি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীকে।

এই পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, ভবিষ্যতে সিকিমে পর্যটন কমে যাবে বলে শঙ্কা। প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে এই বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এবং পর্যটকদের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে।

এই প্রতিবেদনে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

সপ্তাহে ৭ লক্ষ পর্যটক সিকিম ভ্রমণ করেছেন।
হ্রদ বিপর্যয়ের পর এত পর্যটক আসা অত্যাশা ছিল না।
দার্জিলিং-এও পর্যটকদের হেনস্থা করা হচ্ছে।
শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যেতে ৫-৬ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।