“ডাক্তার নয়, ওষুধের কুফল রোগীকে বোঝাবেন ফার্মাসিস্ট”-রায় দিলো আদালত

সোমবার, একটি জনস্বার্থ মামলার রায়ে দিল্লি হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, প্রেসক্রিপশন লেখা ওষুধের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে রোগীকে সচেতন করার দায়িত্ব চিকিৎসকের নয়। আদালত বলেছে, ১৯৪৫ সালের ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক্স অ্যাক্ট অনুসারে, এই দায়িত্ব ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা এবং ওষুধের দোকানে কর্মরত ফার্মাসিস্টদের।

জ্যাকব ভড়াকানচেরি নামে এক ব্যক্তি দিল্লি হাইকোর্টে এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন যে, সকল চিকিৎসককে প্রেসক্রিপশনের সাথে একটি অতিরিক্ত স্লিপ যুক্ত করে রোগীকে স্থানীয় ভাষায় লেখা ওষুধের ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করতে নির্দেশ দেওয়া হোক।

আদালত তাদের রায়ে উল্লেখ করেছে যে, ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক্স অ্যাক্ট এবং ফার্মেসি প্র্যাকটিস রেগুলেশনস অনুযায়ী, ওষুধের লেবেল বা লিফলেটে সতর্কবাণী লেখার দায়িত্ব ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার। ওষুধের সুফল-কুফল, ঝুঁকি, পার্শ্ব বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে রোগী-পরিজনকে সচেতন করার দায়িত্ব ওষুধের দোকানে কর্মরত ফার্মাসিস্টদের।

এই রায় বেশিরভাগ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দ্বারা সমর্থিত হয়েছে। তবে, কিছু মহল এই রায়ের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের মতে, সকল রোগী স্থানীয় ভাষা পড়তে নাও পারেন, তাই ওষুধের ঝুঁকি সম্পর্কে তাদের সচেতন করার জন্য আরও বিকল্প পদ্ধতি প্রয়োজন।

প্রেসক্রিপশন লেখা ওষুধের ঝুঁকি সম্পর্কে রোগীকে সচেতন করা গুরুত্বপূর্ণ। আইনিভাবে, এই দায়িত্ব ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা এবং ওষুধের দোকানে কর্মরত ফার্মাসিস্টদের। তবে, সকল রোগীর কাছে সঠিকভাবে এই তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য আরও কার্যকর পদ্ধতি প্রয়োজন।