“নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা নজিরবিহীন অপমান”-জানালো ইসরায়েল

গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদনকে নজিরবিহীন অপমান হিসাবে আখ্যায়িত করেছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এএফপি।

অপরদিকে পরোয়ানা আবেদনে তিন নেতার নাম থাকায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস।

গত সোমবার (২০ মে) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ও হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা চেয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা ও এর জেরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা চাওয়া হয়েছে। আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান এ তথ্য জানান।

ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সমর্থন করে।

এদিকে আইসিসিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদনকে ‘এক নৈতিক আক্রমণ’ বলে উল্লেখ করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ইসরায়েল “সন্ত্রাসী সংগঠন” হামাসের বিরুদ্ধেই শুধু যুদ্ধ করছে। হলোকাস্টের (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদিদের ওপর চালানো গণহত্যা) পর থেকে ইহুদি জনগণের ওপর সবচেয়ে ভয়ানক হামলা চালিয়ে আসছে সংগঠনটি।

তিনি আরো বলেন, হেগের (আইসিসি) কৌঁসুলি ইসরায়েলের মতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে একজন ‘গণহত্যাকারীর’ সঙ্গে তুলনা করেছে। আমি আইসিসির দেয়া এ অভিযোগ বিরক্তের সঙ্গে প্রত্যাখান করছি।

কৌঁসুলি করিম খান এক বিবৃতিতে জানান, তিনি স্বেচ্ছায় মানুষ হত্যা, (মানুষকে) নিশ্চিহ্ন করা এবং/অথবা হত্যাকাণ্ড পরিচালনা এবং ‘মানুষকে ক্ষুধার্ত রাখার’ অপরাধে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন। এই যুদ্ধে ইসরায়েলে ‘ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিস্তৃত আকারে ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা চালিয়েছ; যা একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ।