বিশেষ: শত শত নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা কে এই প্রজওয়াল রেভান্না? জেনেনিন পরিচয়

ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়ার নাতি এবং আইনপ্রণেতা (এমপি) প্রজওয়াল রেভান্নার বিরুদ্ধে কয়েক শত নারীকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে চলমান লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে এসব ঘটনার ভিডিও ফাঁস হওয়ায় আলোচনা-সমালোচনা এখন তুঙ্গে। তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে হাজারো নারী। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন সব অভিযোগ।
৩৩ বছর বয়সী অভিযুক্ত প্রজওয়াল রেভান্নার দলের সঙ্গে জোট করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে এই বিতর্কিত নেতার পক্ষে ভোটও চেয়েছেন মোদি। এতে কংগ্রেসের সমালোচনার নিশানা হয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কেলেঙ্কারির এ ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য কর্ণাটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে ফেলে দিয়েছে চরম ঝুঁকিতে।
ধর্ষণ ও যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ওই নেতা প্রজওয়াল রেভান্না দক্ষিণ কর্ণাটক রাজ্যের জনতা দল (ধর্মনিরপেক্ষ) বা জেডি(এস)-এর নেতা। রেভান্নার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে কয়েক মাস ধরেই বিতর্ক চলছিল। কয়েকদিন ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনা হওয়ায় বিশেষ তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মূলত রেভান্নার পক্ষে মোদি ভোট চাওয়ার পরই তার যৌন কেলেঙ্কারির ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তীব্র সমালোচনার মুখে অবশ্য ৩৩ বছর বয়সী ওই নেতার পেছন থেকে দূরে সরে যায় বিজেপি।
ক্ষমতাসীন দলের দাবি, এ ধরনের অপরাধের বিষয় তাদের জানাছিলো না। কিন্তু কংগ্রেস বলছে, সব জেনেও বিজেপি নেতারা জোট করেছেন। জেডি(এস) দলের সাংসদ প্রজওয়াল রেভান্না বছরের পর বছর ধরে একাধিক নারীকে ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন। সেই মামলাগুলো নতুন মাত্রা পেয়েছে যখন একজন প্রতিবাদী ও সাহসী তরুণী এগিয়ে আসেন। প্রজওয়ালের বাবা এইচডি রাভেন্নার বিরুদ্ধেও যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগ করেছেন তরুণী৷ কর্ণাটক পুলিশ সদস্য দিয়ে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) কাছে জেডি(এস) সাংসদের বিরুদ্ধে একটি বিস্তারিত সাক্ষ্য দিয়েছেন ওই তরুণী।
তরুণী অভিযোগ করেন, প্রজওয়াল রেভান্না তার মাকে চার থেকে পাঁচ বছর আগে তাদের বেঙ্গালুরুর বাসভবনে ধর্ষণ করেছিলেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, প্রজওয়াল রেভান্না তাকে ভিডিও কলে যোগ দেয়ার জন্য কৌশলের পাশাপাশি প্রভাব খাটায়, এ সময় এমপি তাকে তার পোশাক খুলে ফেলতে বলে। তা না করলে আমার মায়ের ক্ষতি করার হুমকি দেয় ওই এমপি।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-কে দেয়া সাক্ষাতকারে ওই তরুণী আরো বলেন, আমার বাবাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিয়ে প্রজওয়াল রেভান্না আমার মাকে ধর্ষণ করে। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর তার বাবাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ওই তরুণী আরো অভিযোগ করেন, তার মাকে এইচডি রেভান্নাও যৌন হয়রানি করেছিলেন।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘আমার মা চার থেকে পাঁচ মাসে একবার বাড়িতে আসতেন। তাকে এত বেশি হয়রানি করা হতো যে সে কেবল গভীর রাতে, ১টা থেকে ২টার দিকে আমাদের ফোন করত। তিনি খুব কমই আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারতেন। তারা আমার মায়ের সাথে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করেছে এবং আমার বাবাকে লাঞ্ছিত করেছে।’
বিতর্কিত এই দলের সঙ্গে বিজেপির জোট গঠন করা নিয়ে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মোদির চরম সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রিয়াঙ্কা লিখেছেন, ‘কর্ণাটকে যে নেতার জন্য মোদি ভোট চেয়েছেন, ওই ব্যক্তি হাজার হাজার নারীকে যৌন নিপীড়ন করেছেন। আমার প্রশ্ন, এ বিষয়ে কী বলছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ও কেন্দ্রিয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ?’
অন্যদিকে রাহুল কর্ণাটকে এক সমাবেশে মোদির সমালোচনা করে বলেছেন, তিনি সমাবেশে ‘গণধর্ষককে’ সমর্থন করেছেন। প্রত্যেক বিজেপি নেতা জানতেন রেভান্না গণধর্ষক, তবুও তারা জেডি(এস)-এর সঙ্গে জোট করেছিলেন।
এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উল্টো কংগ্রেসকেই দুষছেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার কেন রেভান্নার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি?
অভিযুক্ত প্রজওয়াল রেভান্নার দাদা ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। এরপর ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। ব্যাপক মাত্রায় যৌন হয়রানির ঘটনায় তার গড়া দল জেডি(এস) অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে শঙ্কা জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অধিকারকর্মীরা।
২০১৯ সালে বিজেপি কর্ণাটকের ২৮টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৫টিতেই জিতেছিল। কিন্তু কংগ্রেস গত বছর রাজ্যসভা নির্বাচনে শাসক দলকে পরাজিত করে। এ ঘটনায় কর্ণাটকের সংসদীয় আসনে জয়ের বিষয়ে শঙ্কায় পড়ে গেছে বিজেপি ও এর সহযোগী দলগুলো।
সূত্র: লাইভমিন্ট