পুরীতে শুরু জগন্নাথের রথ নির্মাণ, জেনেনিন রথযাত্রা উৎসব শুরু কবে ?

অক্ষয় তৃতীয়া থেকেই পুরীতে শুরু হয়ে গেছে রথযাত্রা উৎসবের প্রস্তুতি। শুক্রবার থেকে জগন্নাথধামে শ্রমিকরা হাত লাগিয়েছেন রথ তৈরির কাজে। আগামী ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে চলতি বছরের রথযাত্রা উৎসব। দেশ-বিদেশ থেকে কোটি কোটি ভক্ত জমা হবেন জগন্নাথদেবের দর্শনে। এই মহাসমারোহকে কেন্দ্র করে পুরী জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই শুরু করেছে যাবতীয় প্রস্তুতি।

রথের বিবরণ:

জগন্নাথদেবের নন্দীঘোষ: উচ্চতা – ৪৫.৬ ফুট, কাঠের টুকরো – ৭৪২ টি
ভগবান বলরামের তালধ্বজ: উচ্চতা – ৪৫ ফুট, কাঠের টুকরো – ৭৩১ টি
দেবী সুভদ্রার দর্পদলন: উচ্চতা – ৪৪.৬ ফুট, কাঠের টুকরো – ৭১১ টি

রথ নির্মাণের কাজ:
জগন্নাথধামে ২০০ জন শ্রমিক, যার মধ্যে রয়েছেন ছুতোর মিস্ত্রি, ভোই সেবায়েত, কামার, কাঠুরে, তাঁতি এবং শিল্পী, মিলে রথ নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। মন্দির কর্তৃপক্ষের একজন আধিকারিক জানিয়েছেন, “বন দফতর থেকে কাঠ ইতিমধ্যেই আমরা পেতে শুরু করেছি। রথ নির্মাণের কাজ শুরুর আগে প্রথামাফিক একটি পূজাও করা হয়েছে।”

৪২ দিনের চন্দনযাত্রা:

অক্ষয় তৃতীয়া থেকেই শুরু হয়েছে ৪২ দিনের চন্দনযাত্রা।
এই রীতি পুরীর মন্দিরে দু’ভাগে পালিত হবে বাহারা চন্দন এবং ভিতর চন্দন।প্রতিটি রীতি ২১ দিনের ব্যবধানে পালিত হবে।
প্রথম ভাগের ২১ দিনে জগন্নাথদেব, ভগবান বলরাম এবং দেবী সুভদ্রার তিনটি প্রতীকী মূর্তি মন্দির থেকে বের করে নরেন্দ্র ট্যাঙ্কে নিয়ে যাওয়া হবে।
গ্রীষ্মের বিকেলে সেখানে তাদের স্নান করানো হবে।

মদনমোহন, রাম, কৃষ্ণ, লক্ষ্মী এবং সরস্বতীর মূর্তিগুলি নরেন্দ্র ট্যাঙ্কে স্নানের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।পঞ্চ পাণ্ডব নামে পরিচিত পাঁচটি শিবের মূর্তিও নিয়ে যাওয়া হবে।নরেন্দ্র ট্যাঙ্কে একটি নৌকাতে মদনমোহন, লক্ষ্মী এবং সরস্বতীকে বসানো হবে।অন্য নৌকাতে বসবেন রাম, কৃষ্ণ এবং পঞ্চ পাণ্ডব।
গান ও নাচের তালে গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় জলবিহার উপভোগ করবেন তাঁরা।শেষ ২১ দিনের চন্দনযাত্রা মন্দিরের ভিতরে পালিত হবে।

কাঠ সংগ্রহ:
রথ তৈরির জন্য কাঠ নয়াগড় জেলার দাসপাল্লা ও মহিপুরের জঙ্গল থেকে আনা হয়।কিন্তু সবাই এই বন থেকে কাঠ কাটতে পারে না কারণ এটি নয়াগড়ে দেবীর পূজার স্থান।প্রতি বছর পৌষ মাসের ষষ্ঠীতে জগন্নাথ মন্দিরের গজপতি মন্দিরে যান এবং দেবীকে জগন্নাথের পোশাক ও ফুল উপহার দেন।