বাইরে সবুজ ভিতরে হলুদ, বাংলায় ভোটের বাজারে ‘রংবদল’ তরমুজের

‘তরমুজ’ শব্দটি বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন নয়। একসময় কংগ্রেস নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে বামেদের সাথে সখ্যতার জন্য ‘তরমুজ’ বলে কটাক্ষ করা হত। বর্তমানে বাম-কংগ্রেসের আসন সমঝোতার ফলে এই শব্দটি আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
হুগলির পান্ডুয়ায় বাজারে এসেছে এক অদ্ভুত তরমুজ। বাইরে লাল, ভেতরে হলুদ! এই তরমুজটি এলাকায় রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছে।
এই তরমুজকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের অনুদ্যুতি চক্রবর্তী বলছেন, “এখন তৃণমূল-বিজেপির সম্পর্ক সবার জানা। তাই এই তরমুজ বাজারে এসেছে সঠিক সময়ে, এবং প্রাসঙ্গিক হয়েছে।”
সিপিএমের প্রদীপ সাহা বলছেন, “তরমুজের রঙ কী, তার উপর দাঁড়িয়ে ভোট হয় না। বামপন্থীরা ঘোষিত আরএসএস বিরোধী।”
তৃণমূলের সঞ্জয় ঘোষের দাবি, “২০১৯ সালে বামের ভোট রামে গিয়েছিল, যে কারণে হুগলিতে লকেট চট্টোপাধ্যায় জিতেছিলেন। আগে সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে যেটা বলা হত তরমুজ। এখন দেখা যাচ্ছে ভিতরে গেরুয়া বাইরে লাল।”
বিজেপির অমিতাভ ঘোষ বলছেন, “বিজেপি এতবড় দল যে তাদের অন্য কাউকে প্রয়োজন নেই। নিজের দমে নির্বাচন লড়তে পারে বিজেপি। তরমুজ সিপিএম কংগ্রেস বা তৃণমূলের জন্য সঠিক। কারই তারা ইন্ডিয়া জোটে আছে।”
তরমুজ বিক্রেতা রবি মাল বলছেন, “বেঙ্গালুরু থেকে এই তরমুজ আনা হয়েছে। এবারই প্রথম এই হলুদ তরমুজ এসেছে। দাম লাল তরমুজের থেকে কিছু বেশি। তবে খুবই সুস্বাদু, তাই বিক্রিও ভালোই হচ্ছে।”
এই অদ্ভুত তরমুজ বঙ্গ রাজনীতির বর্তমান অবস্থার একটি প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ‘তরমুজ’ শব্দটি আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে, এবং রাজনৈতিক তরজার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।