সুপার টুয়েসডেতে ট্রাম্পের বাজিমাত, প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন নিকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ও জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মার্চ) সকালে নিকি তার নিজ রাজ্য সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লসটনে সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানা গেছে। ‘সুপার টুয়েসডেতে’ রিপাবলিকান মনোনীত প্রতিযোগিতায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় সব রাজ্যে জয়লাভ করার কয়েক ঘণ্টা পরেই নিকির সরে দাড়ানোর বিষয়টি সামনে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সুপার টুয়েসডে মূলত প্রাইমারি নির্বাচনের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ দিন। এদিন প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য একসঙ্গে ১৫টি অঙ্গরাজ্যে প্রাথমিক ভোটাভুটি হয়। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এদিনই বুঝিয়ে দেন নির্বাচনের মূলপর্বে ঠিক কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
মঙ্গলবার (৫ মার্চ) সুপার টুয়েসডেতে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিন অনুষ্ঠিত ১৫টি অঙ্গরাজ্যের ১৪টিতেই জয়লাভ করেন তিনি। অন্যদিকে, এদিন তার দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী নিকি হ্যালি জয় পান শুধু ভরমেন্ট অঙ্গরাজ্যে। আর আলাবামা, আলাস্কা, আরকানসাস, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, মেইন, ম্যাসাচুসেটস, মিনেসোটা, উত্তর ক্যারোলাইনা, ওকলাহোমা, টেনেসি, টেক্সাস, ইউটাহ ও ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে জিতেছেন ট্রাম্প।
এর আগে নিকি হ্যালি তার নিজ অঙ্গরাজ্য সাউথ ক্যারোলাইনাতেও ট্রাম্পের কাছে হেরে যান। তবে পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে জয়ী হয়ে সবাইকে হতবাক করে দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নিকি হ্যালিই প্রথম নারী যিনি রিপাবলিকান পার্টির কোনো প্রাইমারিতে জয় লাভ করেন।
একাধিক মামলা থাকার পরও রিপাবলিকানদের মধ্যে এখনো জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যেই তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিজের জয়ের ব্যাপারে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। বাইডেন, ইউ আর ফায়ারড! গেট আউট, গেট আউট! আগামী নভেম্বরে জো বাইডেনের চোখে চোখ রেখে এই কথাটা বলবেন- এমন ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।
গত এপ্রিলে ট্রাম্প যখন প্রথমবারের মতো অভিযুক্ত হলেন তারপর থেকেই তার পক্ষে সমর্থন বেড়েছে। যদিও ট্রাম্পই হলেন ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হওয়া প্রথম সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রথমবার গ্রেফতার হওয়া ও আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর থেকে ট্রাম্পই পরিণত হয়েছেন রিপাবলিকান ভোটারদের প্রথম পছন্দে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত জনমত বিশ্লেষণকারী গবষেণা প্রতিষ্ঠান ‘ইপসস’র শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ক্লিফোর্ড ইয়ং মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের মধ্যে যে একাত্মতাবোধ রয়েছে, তা ভাঙা কঠিন হবে। রিপাবলিকান ভোটারদের ৪০ থেকে ৪৫ ভাগই ট্রাম্প সমর্থক ও তারা ট্রাম্পের চোখ দিয়েই দুনিয়া দেখে। তারা বিশ্বাস করে, ট্রাম্পের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে ও তার বিরুদ্ধে তোলা সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ বছরের শুরু থেকেই ট্রাম্পকে প্রচারণা ও আদালতে হাজিরা দেওয়া- দুটি বিষয়ই সামাল দিতে হচ্ছে। দোষী সাব্যস্ত হলে বা দণ্ডিত হলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে না দাঁড়ানোর ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছেন এই রিপাবলিকান নেতা।
আপাতত যা দেখা যাচ্ছে তা হলো, ট্রাম্প জনসমর্থনের দিক থেকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাইডেনের চেয়ে কিছুটা এগিয়েই আছেন। দ্য ইকোনমিস্টের সর্বশেষ জরিপ বলছে, এখন ৪৬ শতাংশ জনমত ট্রাম্পের পক্ষে। আর বাইডেনকে চান ৪৪ শতাংশ মার্কিনি।
জরিপে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে জনপ্রিয়তায় বর্তমান প্রেসিডেন্টকে ছাপিয়ে যেতে শুরু করেন ট্রাম্প। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাইডেনের ফিটনেস নিয়ে আলোচনা অনেক দূর গড়িয়েছে। সাইকেল চালাতে গিয়ে পড়ে যাওয়া কিংবা বিমানে উঠতে গিয়ে হোঁচট খাওয়ার ঘটনাগুলো তার শারীরিক সক্ষমতার ব্যাপারে খুব একটা ভালো ধারণা দেয় না। সবকিছু মিলিয়ে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পই সবচেয়ে জনপ্রিয় সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
সূত্র: এএফপি, সিবিএস নিউজ